বড় সংঘাতের পথে মধ্যপ্রাচ্য?

বড় সংঘাতের পথে মধ্যপ্রাচ্য?

ফন্ট সাইজ:

এক মাসেরও বেশি সময় পর ফের যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোররাতের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক সামরিক স্থিতিশীলতার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর আগে রোববার ইরানের দুটি রকেট লঞ্চারে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

ওয়াশিংটনের দাবি, এসব লঞ্চার থেকে হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র-মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও নৌ-বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। একই সঙ্গে এই জলপথ নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি মাইনমুক্ত ঘোষণার কয়েক দিন পরই নতুন করে এই হামলা-পাল্টা হামলা হলো।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর সামরিক চাপের বদলে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর যে কৌশল নিয়েছিল ওয়াশিংটন, এই হামলা সেই নীতিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পরিচালনার অধিকার ইরান নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সামরিকভাবে জলপথে টহল এবং ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে অবরোধ বজায় রেখেছে।

ইরানের রকেট লঞ্চারে মার্কিন হামলা

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, রোববার ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাসের উপকূলের কাছে অবস্থিত লারাক দ্বীপে ইরানি বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে মাইন নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

পরে সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে ‘আসন্ন হুমকি’ তৈরি করা ইরানের মাইন স্থাপনকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘সীমিত ও সুনির্দিষ্ট হামলা’ চালানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান হুমকি তৈরি করেছিল এবং বেসামরিক নাবিক, বাণিজ্যিক জাহাজ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ রক্ষায় মার্কিন সামরিক বাহিনী সেই হুমকি দূর করেছে।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, লারাক দ্বীপের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলায় ইরানি সামরিক সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

‘আগ্রাসনের জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত’

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোমবার বলেন, তেহরান যুদ্ধ চায় না। তবে আগ্রাসনের মুখে ইরান নীরব থাকবে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি তাকে উদ্ধৃত করে জানায়, আমরা যুদ্ধ চাই নাৃ কিন্তু আগ্রাসনের মুখে আমরা কখনো নিষ্ক্রিয় বসে থাকব না। আমরা সিদ্ধান্তমূলক জবাব দেয়ার সক্ষমতা রাখি।

এ ছাড়া ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মার্কিন হামলাকে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘কৌশলগত ও প্রাণঘাতী ভুল’ হিসেবে অভিহিত করে পাল্টা জবাব দেয়ার হুমকি দিয়েছে।

পরবর্তীতে সোমবার সকালে ইরান দাবি করে, তারা জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, বেসামরিক নাগরিক বা সম্পদের জন্য হুমকি তৈরি করার আগেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়।

অন্যদিকে ইউএইর আঞ্চলিক জলসীমার ওপর একটি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছিল, দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড ইউএইতে মার্কিন সেনাদের অবস্থান করা একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

তবে ইউএই জানিয়েছে, ওই ঘাঁটিতে হামলা হয়নি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলাটিকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, হামলার জবাব দেয়ার পূর্ণ অধিকার তারা সংরক্ষণ করে।

চলতি বছরের শুরুতে যুদ্ধের তীব্র পর্যায়ে ইউএই ছিল সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার দেশগুলোর একটি। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটিতে হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। নতুন করে সংঘাতে ফের ভিন্ন চিত্র আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।