বেসামরিক পদে সামরিক ‘ইনফ্লুয়েন্সার’দের গোপনে নিয়োগ দিয়েছে পেন্টাগন

ওয়াশিংটন পোস্টের অনুসন্ধান

বেসামরিক পদে সামরিক ‘ইনফ্লুয়েন্সার’দের গোপনে নিয়োগ দিয়েছে পেন্টাগন

ফন্ট সাইজ:

বিপুলসংখ্যক অনলাইন অনুসারী আছে এমন কয়েকজন রক্ষণশীল সামরিক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সরকারি বিভিন্ন পদে গোপনে নিয়োগ দিয়েছে পেন্টাগন। তবে তাদের দায়িত্ব বা পদায়নের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তি ও বিভিন্ন নথির তথ্য অনুযায়ী, এসব ব্যক্তি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মতামত প্রচার করার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা ব্যক্তিদের আক্রমণ করে আসছেন। অনুসন্ধানী এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ওয়াশিংটন পোস্ট। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এসব ইনফ্লুয়েন্সারের অন্তত কয়েকজনকে এমন বেসামরিক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যেখান থেকে তারা নীতিনির্ধারণে পরিবর্তন আনার সুযোগ পেতে পারেন। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন।

ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে স্বচ্ছ প্রতিরক্ষা বিভাগ পরিচালনা করছে বলে দাবি করলেও পেন্টাগন কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের সরকারি দায়িত্বের বিষয়টি প্রকাশ করেননি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনী কর্নেল রব মানেস এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী কর্নেল কার্ট শ্লিখটার। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট পেন্টাগনের যেসব নথি পর্যালোচনা করেছে, তাতে দেখা গেছে, গত সপ্তাহ পর্যন্ত দু’জনেরই সক্রিয় সরকারি ই-মেইল ঠিকানা ছিল। তাদের দু’জনকেই প্রতিরক্ষা বিভাগের জনবল ও প্রস্তুতি বিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি অ্যান্থনি টাটার দপ্তরে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের সরকারি ই-মেইল ঠিকানায় ‘.পরা’ প্রত্যয় রয়েছে। এর অর্থ, তাদের বেসামরিক কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; সামরিক সদস্য বা ঠিকাদার হিসেবে নয়। রব মানেস ও কার্ট শ্লিখটার দু’জনই কয়েক দশক সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন। অবসর নেয়ার পর তারা সামরিক জীবন থেকে রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মানেসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি অনুসারী রয়েছে। অন্যদিকে শ্লিখটারের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার।

অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী কর্নেল ও ইনফ্লুয়েন্সার থমাস অ্যান্ডারসনকেও চলতি বছরের শুরুর দিকে পেন্টাগনের নথিতে ‘.পরা’ ই-মেইল ঠিকানাসহ তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল এবং তাকে টাটার দপ্তরে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টও এসব নথি পর্যালোচনা করেছে। পেশায় আইনজীবী অ্যান্ডারসন অনলাইনে ‘সিনিক্যাল পুবলিয়াস’ ছদ্মনামে লেখেন। এক্সে তার অনুসারীর সংখ্যা ৩ লাখ ২৩ হাজারের বেশি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের শেষদিকে পেন্টাগনের নথিতে আর তার নাম দেখা যায়নি। এই তিন ব্যক্তির পদায়নের বিষয়টি এর আগে প্রকাশ্যে আসেনি। পেন্টাগনের সঙ্গে ইনফ্লুয়েন্সারদের যোগাযোগ নিয়েও অনলাইনে প্রশ্ন উঠেছে। গত সপ্তাহে দ্য বালওয়ার্ক-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। পেন্টাগনের মুখপাত্র জোয়েল ভালদেজ দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’কে জানান, এই তিন ব্যক্তি করদাতাদের অর্থে বেতন পাচ্ছেন কি না, তাদের দায়িত্ব কী এবং এসব পদে তারা কতদিন থাকবেন এসব বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।

টাটাও মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেননি। মানেস ও শ্লিখটারকে মন্তব্যের জন্য ই-মেইল ও অন্যান্য মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো জবাব দেননি। অ্যান্ডারসন স্বল্প সময়ের এক টেলিফোন আলাপে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এই ব্যক্তিদের ‘স্পেশাল গভর্নমেন্ট এমপ্লয়ি’ (এসজিই) অথবা ‘হাইলি কোয়ালিফায়েড এক্সপার্ট’ (এইচকিউই) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট পর্যালোচনা করা তথ্য অনুযায়ী, একটি সরকারি ডাটাবেসে শ্লিখটারের নামের পাশে ‘এইচকিউই’ পরিচয় উল্লেখ রয়েছে। আইন অনুযায়ী, এসজিই হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা ৩৬৫ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৩০ দিন কাজ করতে পারেন। অন্যদিকে, সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এইচকিউই মর্যাদায় নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীন কাজ করতে পারেন।

তারা বেতন নিয়ে কিংবা বিনা পারিশ্রমিকেও কাজ করতে পারেন। এ বিষয়ে ২০২৩ সালে সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে মানেস, শ্লিখটার ও অ্যান্ডারসনের সঙ্গে কী ধরনের আর্থিক চুক্তি করা হয়েছিল এবং তাদের প্রত্যেকের নিয়োগ ঠিক কবে থেকে কার্যকর হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।