বগুড়ায় ড্রেন খননের সময় পাওয়া গেলো ৩৩৪ রাউন্ড গুলি

বগুড়ায় ড্রেন খননের সময় পাওয়া গেলো ৩৩৪ রাউন্ড গুলি

ফন্ট সাইজ:

বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র জিলা স্কুলের প্রাচীরঘেঁষা এলাকায় ড্রেন নির্মাণের সময় মাটির নিচে থেকে পাওয়া গেলো বিপুল পরিমাণ গুলি। রোববার বেলা ১১টার দিকে বগুড়া সিটি করপোরেশনের উন্নয়নকাজ চলাকালে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মোট ৩৩৪ রাউন্ড গুলি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে জিলা স্কুলসংলগ্ন মাস্টার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের খননকাজ শুরু করেন শ্রমিকেরা। মাটি কাটার একপর্যায়ে দক্ষিণ পাশের দেয়ালে একটি ধাতব বস্তুর স্পর্শ পান এক নির্মাণ শ্রমিক। কৌতূহলবশত মাটি সরাতেই একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে গুলি। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সেখানে কর্মরত অন্যান্য শ্রমিকদের জানানো হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে বগুড়া সদর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
সংবাদ পাওয়ার পরপরই বগুড়া সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা এলাকাটি কর্ডন করে ফেলেন এবং মাটির গভীর থেকে ৩৩৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে হেফাজতে নেন। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গুলিগুলো অনেক দিন ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে ছিল বলে ধারণা করা হলেও এগুলো কত আগের, তা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।
উদ্ধারকৃত গোলাবারুদের মূল উৎস শনাক্তে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিক তদন্তে দু’টি দিককে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। প্রথমত, এগুলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত গুলি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত গণঅভ্যুত্থানকালে থানা বা সরকারের কোনো অস্ত্রাগার থেকে লুট হওয়া গুলির অংশবিশেষ গোপনে এখানে পুঁতে রাখা হয়েছিল কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের এই সার্বিক বিষয়ে বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, উন্নয়নকাজের মাটি কাটার সময় শ্রমিকেরা মাটির নিচে কার্তুজগুলো দেখতে পান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সুনির্দিষ্টভাবে ৩৩৪টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, উদ্ধারকৃত এই বিপুল পরিমাণ গুলি কোন সময়ের এবং কোন নির্দিষ্ট অস্ত্রের, তা বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এগুলো কি মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিজড়িত নাকি সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে থানা থেকে খোয়া যাওয়া গোলাবারুদের অংশ, তা ব্যালাস্টিক পরীক্ষা ও চূড়ান্ত তদন্ত শেষেই স্পষ্ট হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুতই এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা ও বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে।