কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে দ্রুত বদলে যাচ্ছে যৌন পুতুলের (সেক্স ডল) বাজার। মানবদেহের আদলে তৈরি এসব পণ্যে এখন যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম ব্যক্তিত্ব, স্পর্শ শনাক্ত করার ব্যবস্থা এবং নানা ধরনের স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়া। যৌন পুতুলের বাজারের এই দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে নারী-বিদ্বেষ ও নৈতিকতার প্রশ্নও সামনে আসছে।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি সড়কের পাশে স্যুটকেসে নারীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফরেনসিক পরীক্ষায় জানা যায়, সেটি কোনো মানুষের দেহ নয়, বরং একটি যৌন পুতুল। পুতুলটির শরীরে কৃত্রিম আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাটি ঘিরে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলেও পরে পুলিশি তদন্ত বন্ধ হয়ে যায়। বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী যৌন পুতুলের বাজারের মূল্য ছিল প্রায় ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০৩৩ সালের মধ্যে তা ১৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে ক্রেতারা এখন পুতুলের চেহারা ও ব্যক্তিত্ব নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী নির্ধারণ করতে পারছেন। কিছু পুতুলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত থাকায় সেগুলো কথোপকথন মনে রাখতে এবং ব্যবহারকারীর আচরণ অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে বাস্তব নারীর ছবি ব্যবহার করে পুতুল তৈরির সুযোগ নিয়ে। সমালোচকদের আশঙ্কা, সংশ্লিষ্ট নারীর অনুমতি ছাড়া তার আদলে পুতুল তৈরি করা ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সম্মতির গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। অপরাধবিজ্ঞানী ও গবেষকেরা বলছেন, যৌন পুতুল ব্যবহারের সঙ্গে বাস্তব জীবনের যৌন সহিংসতার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। এ বিষয়ে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।
তবে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, নারীদেহকে ভোগের বস্তু হিসেবে উপস্থাপন এবং পুতুলের ওপর সহিংস আচরণ সমাজে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে প্রযুক্তির এই নতুন বাজার শুধু ব্যবসার বিষয় নয়, এর সামাজিক ও নৈতিক প্রভাব নিয়েও গুরুত্ব দিয়ে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।
