শাহরিয়ার নাফীস সাবেক ক্রিকেটার, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক। ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে বর্তমানে সামলাচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের দায়িত্ব। এবার তার নামের সঙ্গে যুক্ত হলো লেখক পরিচয়। বন্ধু এইচ এম আতিফ ওয়াফিকের সঙ্গে যৌথভাবে লিখেছেন ‘প্লে অ্যান্ড স্টাডি, উইন দ্য রেস’ শীর্ষক বই। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ ও ক্রীড়াবিদদের গল্প তুলে এনে খেলাধুলা ও পড়াশোনার সহাবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তিনি। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টারে বইটির মোড়ক উন্মোচন হয়।
তিন বছর ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করে লেখা এই বইয়ের পেছনের ভাবনা নিয়ে শাহরিয়ার নাফীস বলেন, ‘১০০ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে একজন একদম শীর্ষ পর্যায়ে যায়। কিন্তু বাকিরা যেহেতু শীর্ষ পর্যায়ে যেতে পারছে না, খেলার পাশাপাশি পড়াশোনা থাকলে জীবনে কতোখানি তাকে সাহায্য করে এই ব্যাপারটা আমি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। মূল উদ্দেশ্য ছিল একজন খেলোয়াড় প্রচুর সময় ব্যয় করে, এরপরে তার পড়াশোনাটা আসলে কতোটুকু প্রয়োজন তার জীবনে।’ বইয়ের কাজ কবে শুরু করেছিলেন এবং কীভাবে সাজিয়েছেন, সে বিষয়েও ধারণা দেন সাবেক এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তিনি বলেন, ‘এই বইয়ের কাজ শুরু করেছিলাম ২০২২ সালে। এটা একটা গবেষণাধর্মী বই। যে কাজ করার চেষ্টা করেছি, সেটা হচ্ছে বিভিন্ন খেলার ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি এখানে জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড়, অ্যালান ডোনাল্ডের সঙ্গে কথা বলেছি, স্টুয়ার্ট ল-এর সঙ্গে কথা বলেছি। ২০০০ সিডনি অলিম্পিকে ৪০০ মিটারের গোল্ড মেডেলিস্ট ক্যাথি ফ্রিম্যানের কোচের সঙ্গেও কথা বলেছি।’ ২০০৬ সালে বাংলাদেশ দলের প্রথম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক শাহরিয়ার পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফলে ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে খেলাধুলা ও পড়াশোনা-দুই জায়গাতেই সমানভাবে মনোনিবেশ করতে হয়েছে তাকে। সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি, ‘(ওয়াহিদুল গণি) স্যার অনেক সময় এরকম বলতেন, ক্রিকেট খেলে কী করবি? তুই তো পড়াশোনাই করিস সারাদিন। আমার বাসায় সবসময় পড়াশোনার চাপ ছিল। যখন জাতীয় দলের অধিনায়ক হয়েছিলাম, তখন আব্বার বলা কথা আমার কানে এখনও ভাসে। আব্বা বলতো, ক্রিকেট শেষ পর্যন্ত ভাত দেবে না। তখন খুব বিরক্ত লাগত, জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করছি, আব্বা বলছে ক্রিকেট ভাত দেবে না। কিন্তু ওইটার মর্মটা আমি এখন বুঝি।’
