রায়ান শেরকির খেলা দেখতে ফুটবলপ্রেমীরা যখন স্টেডিয়ামে আসেন, তখন নিশ্চিত থাকতেই পারেন যে দারুণ কিছু বিনোদন তারা দেখতে পাবেন। হলোও তাই। ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে ম্যানচেস্টার সিটির ৪-১ ব্যবধানের জয়ের রাতে জোড়া গোল করলেন এ ফরাসি তারকা। প্রথম ম্যাচে গোল না পাওয়া আর্লিং ব্রুট হালান্দও ম্যাচে জোড়া গোলের মালিক। এ নিয়ে ছয়বার ক্রিস্টাল প্যালেসের মুখোমুখি হয়ে প্রতিবারই জাল খুঁজে নিলেন এ নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে রাহিম স্টার্লিং ও মোহাম্মদ সালাহর পর স্রেফ তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে একই দলের প্রথম ছয় ম্যাচেই গোল পেলেন হালান্দ। ম্যাচ শেষে নিজের প্রথম হাফের খেলাকে রসিকতা করে ‘খুব বাজে’ বলেন শেরকি।
তবে কোচ মারেস্কার মূল্যায়ন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সিটির ইতালিয়ান কোচ তৃপ্তির সুরে বলেন, ‘ওর পারফরম্যান্স শুধু দুটি গোলের জন্যই অসাধারণ ছিল তা নয়, বল ছাড়া ও যেভাবে পরিশ্রম করেছে সেটিও দারুণ। ওকে বলের জন্য প্রেস করতে হয়। ওর খেলাটা আজ সব দিক থেকে পরিপূরক ছিল। সে ফুটবল ভালোবাসে এবং আমরা জানি ওর সামর্থ্য কতখানি।’ সব মিলিয়ে গত কমিউনিটি শিল্ডের ধাক্কা সামলে দল এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে বলেই বিশ্বাস মারেস্কার। অন্যদিকে, সিটির আক্রমণভাগের মূল অস্ত্র হালান্দ তো জোড়া গোল করে জানান দিয়েছেন তিনি নতুন মৌসুমের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে হালান্দ বলেন, ‘আমাদের একসঙ্গে খেলা চালিয়ে যেতে হবে এবং দল হিসেবে কোথায় আমাদের সেরাটা আসছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। আমাদের দলে এত দারুণ সব খেলোয়াড় আছে যে সবাইকে ঠিকঠাক মানিয়ে নিতে হবে।’ খেলা শুরুর প্রথম ১৭ মিনিটে সমতা ভেঙে সিটিকে এগিয়ে দেন হালান্দ। অ্যান্টোইন সেমেনিওর ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে বল জালে জড়ান এই নরওয়েজিয়ান সুপারস্টার। প্রথমার্ধে প্যালেস লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট পাল্টে দেন শেরকি।
বাঁ দিক থেকে দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে স্বাগতিকদের রক্ষণ দুর্গ ভেঙে গোল করেন তিনি। যদিও এর পরপরই ইয়েরেমি পিনোর ফ্রি-কিক সিটি গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোল পেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে প্যালেস। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে কোস্তাল পান্তিলিমনের পর সিটিজেনদের প্রথম গোলকিপার হিসেবে নিজেদের জালের বল জড়ান এই ইতালিয়ান গোলকিপার। তবে ৫৯ মিনিটে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেয়া শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে সিটির জয়ের পথ আরও সুগম শেরকি। ম্যাচের শেষ দিকে ফোডেনের পাস থেকে বল পেয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি করেন হালান্দ। প্যালেসের বিপক্ষে লীগের শেষ ছয়টি ম্যাচেই গোল করার রেকর্ড ধরে রাখেন এই গোলমেশিন। এদিনের জয়ে শুধু জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েনি সিটি, বরং কোচ মারেস্কার নতুন ট্যাকটিক্যাল পরীক্ষাও সফল হয়েছে সেলহার্স্ট পার্কে।
২ ম্যাচে শতভাগ জয় ধরে রেখে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট শীর্ষস্থান দখলে নিয়েছে সিটিজেনরা। পরের ম্যাচে আগামী ৫ই সেপ্টেম্বর কভেন্ট্রি সিটিকে আতিথেয়তা জানাবে ইত্তিহাদের ক্লাবটি।
