বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সন্দ্বীপের তারেক নিহত

বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সন্দ্বীপের তারেক নিহত

ফন্ট সাইজ:

রোববার বিকালেও মেয়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছিলেন বাবা। হাসিমুখে বলেছিলেন, ‘আর বেশিদিন না, শিগগিরই দেশে ফিরবো।’ কিন্তু রাত না পেরোতেই সেই কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেল। বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারালেন সন্দ্বীপ প্রবাসী মোহাম্মদ তারেক (৪৮)। গতকাল ভোরে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় একটি ড্রাইডক শিপইয়ার্ডে ডিউটিরত অবস্থায় হামলার শিকার হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ধ্বংসাবশেষ এসে জাহাজে পড়লে গুরুতর আহত হন তারেক। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের একমাত্র মেয়ে তামান্না কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আব্বুর আসার কথা ছিল জানুয়ারিতে। এত দিনে বাবা দেশে থাকতো। কিন্তু গত বছর ওমরা হজ করেছেন বলে বলতেন রোজার শেষে এলে ঈদ ও কোরবানির ঈদ একসঙ্গে পালন করবো, না হলে ঈদের পর এসে বাড়িতে কোরবানির ঈদ পালন করবো। বাবা ১৮ মাস বা দুই বছর পরপর দেশে আসতেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এসেছিলেন। এবার ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে থাকার কথা ছিল।’ ‘রোববার বিকালেও আমার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছে। আজ বিকালে আমার বাবা নেই- এটা বিশ্বাস করতেও কষ্ট হচ্ছে। কোনো জটিলতা ছাড়া দ্রুত বাবাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।’

পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় ২৭ বছর ধরে বাহরাইনে কর্মরত ছিলেন তারেক। তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার একমাত্র মেয়ে কলেজে অধ্যয়নরত। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের মামাতো ভাই ও চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ডিএমডি মোশারফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায়ও তারেক পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছিল। ২৫ রোজায় তার দেশে ফেরার কথা ছিল। পরিবার এখন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।’

বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার জানান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক প্রবাসী বাংলাদেশি মোহাম্মদ তারেক নিহত এবং আরও দুইজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। নিহতের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন