গুমের অন্ধকার থেকে ন্যায়বিচারের পথে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬

গুমের অন্ধকার থেকে ন্যায়বিচারের পথে বাংলাদেশ

ফন্ট সাইজ:

একজন মানুষকে হারানোর কষ্ট হয়তো একসময় চোখের পানিতে প্রকাশ করা যায়। কিন্তু একজন মানুষ কোথায়- বেঁচে আছেন, নাকি নেই-তা না জেনে বছরের পর বছর অপেক্ষা করার কষ্টের কোনো ভাষা নেই। এই অপেক্ষা একদিকে যেমন গভীর বেদনার, অন্যদিকে তেমনি এক অনিশ্চিত জীবনের নাম।
৩০শে আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। দিনটি শুধু গুমের শিকার মানুষদের স্মরণ করার দিন নয়; এটি সেইসব মায়ের কান্না, সেইসব স্ত্রীর অপেক্ষা, সেইসব সন্তানের শূন্যতা এবং সেইসব পরিবারের দীর্ঘশ্বাস স্মরণ করার দিন, যাদের প্রিয়জন একদিন হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গেছেন। প্রিয় মানুষটি কোথায় আছেন, কেমন আছেন, তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না-এই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়ার যন্ত্রণা নিয়ে অসংখ্য পরিবার বছরের পর বছর পার করেছে।

বাংলাদেশও এই নির্মম বাস্তবতার সাক্ষী হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের নিষ্ঠুর শাসনামলে গুমের অভিযোগ ক্রমেই গুরুতর ও নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছিল। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার গুমের অভিযোগ তদন্তে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। সে সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের দীর্ঘ ও ভীতিকর শাসনামলে গুমের একের পর এক অভিযোগ নিয়ে দেশে ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের কাছে জমা পড়া এক হাজার ৯১৩টি অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে গুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭টি ঘটনাকে ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’- হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। কমিশনের সদস্যরা জানিয়েছেন, গুমের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
এদিকে, ৫ই জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দৈনিক সমকালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার শাসনামলে বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠনের অন্তত ৩১২ জন নেতা-কর্মী গুমের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০৭ জন আর ফিরে আসেননি। তাদের তুলে নেয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কিন্তু এই সংখ্যাগুলো কেবল সংখ্যা নয়। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একজন মানুষ, একটি মা, একজন বাবা, একজন স্ত্রী, একটি সন্তান, একটি পরিবার এবং একটি অসমাপ্ত স্বপ্ন। প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য মানুষের কান্না, অপেক্ষা এবং না-বলা কষ্ট।

কোনো শিশুর কাছে তার বাবার একটি ছবি হয়তো এখনো সবচেয়ে প্রিয় জিনিস। কোনো মা হয়তো আজও দরজার দিকে তাকিয়ে থাকেন-এই বুঝি তার ছেলে ফিরে এলো। কোনো স্ত্রী হয়তো আজও বিশ্বাস করেন-একদিন হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়বেন তার স্বামী। কিন্তু বছর যায়, বছর আসে; মানুষটি আর ফিরে আসেন না। অপেক্ষা শুধু দীর্ঘ হতে থাকে।
গুম একটি মানুষকে শুধু তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে না, গুম একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনকেও যেন গুম করে দেয়। একজন মানুষ নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার পরিবারও এক অনিশ্চিত জীবনের মধ্যে পড়ে যায়। স্বজনেরা একদিকে প্রিয়জনকে খুঁজে ফেরেন, অন্যদিকে প্রতিদিন নতুন করে ভয়, হতাশা ও অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করেন।
গুম তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এক হাজার ৫৬৪টি গুমের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ ২১৫টি গুমের ঘটনা নথিভুক্ত হয়। ২০১৭ সালে ১৯৪টি, ২০১৮ সালে ১৯২টি, ২০১৯ সালে ১১৮টি, ২০২২ সালে ১১০টি এবং ২০২৩ সালে ৬৫টি গুমের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

কমিশনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে গুমের ঘটনা বেড়ে যেত এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের লক্ষ্য করে গুমের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া ৯৪৮ জনের মধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ছিলেন। এখনো নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যদের সংখ্যা ৬৮ শতাংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে মানুষের জীবনের অসংখ্য না-বলা গল্প। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর মতো মানুষদের পরিবার বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছে। ২০১২ সালের ১৭ই এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারকে শেখ হাসিনা সরকারের তরফ থেকে একের পর এক আশার কথা শোনানো হয়েছিল। তাকে পাওয়া যেতে পারে-এমন খবরও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অপেক্ষার কোনো পরিণতি আসেনি।
একটি পরিবারের জন্য এর চেয়ে নির্মম যন্ত্রণা আর কী হতে পারে? মানুষটি মারা গেছেন-এ কথা জানলেও হয়তো পরিবার একসময় বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে শোক পালন করার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু মানুষটি কোথায়, কী অবস্থায় আছেন-এই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পরিবারকে প্রতিদিন নতুন করে মৃত্যুর যন্ত্রণা দেয়। তারা শোক পালনও করতে পারে না, আবার আশাও ছাড়তে পারে না। এ এক গভীর ও অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণা।

এই দীর্ঘ অন্ধকারের পর আজ রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুমের শিকার পরিবারগুলোর কষ্টকে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের বিষয় হিসেবে দেখেননি। তিনি তাদের কাছে গিয়েছেন, তাদের কথা শুনেছেন এবং তাদের কান্নার সঙ্গে নিজেও আবেগাপ্লুত হয়েছেন।
২০২৬ সালের ১৭ই জানুয়ারি গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগী স্বজনদের কান্না ও হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার কথা শুনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে স্বজনদের বেদনা ও আর্তনাদে তিনিও কান্নায় ভেঙে পড়েন। দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদনে তার এই মানবিক অনুভূতির কথা উঠে এসেছে। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যরা তাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট, বেদনা এবং প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আকুতি তুলে ধরেন।

সেদিনের কিছু দৃশ্য বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে। এক শিশু বলেছিল, বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার তার স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি। আরেক সন্তান জানিয়েছিল, সে কোনোদিন তার বাবাকে ‘বাবা’ বলে ডাকতেই পারেনি। কারণ, বাবা নিখোঁজ হওয়ার সময় তার বয়স ছিল মাত্র দুই মাস। এভাবেই সেদিন স্বজনেরা তাদের দীর্ঘদিনের বেদনা, কষ্ট ও না-পাওয়ার কথা তুলে ধরেছেন। তাদের প্রতিটি কথা, প্রতিটি অশ্রু আমাদের হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।
এই কান্না শুধু একটি পরিবারের কান্না নয়। এটি বাংলাদেশের বিবেকের কান্না। এই কান্না আমাদের মনে করিয়ে দেয়-রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব মানুষের জীবন, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করা।

সেদিন বিএনপি’র চেয়ারম্যান ও আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কষ্টের সঙ্গে একাত্ম হয়ে বলেছিলেন, অনেক সন্তান এখনো অপেক্ষা করছে-তাদের বাবা হয়তো একদিন দরজায় কড়া নাড়বেন; অনেক মা হয়তো এখনো অপেক্ষা করছেন-হারিয়ে যাওয়া সন্তানটি একদিন ফিরে আসবে। এই অনুভূতি শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; এটি মানুষের প্রতি একজন দায়িত্বশীল নেতার মানবিক দায়বদ্ধতার প্রকাশ।
গুমের শিকার পরিবারগুলোর সবচেয়ে বড় দাবি-তারা সত্য জানতে চান এবং বিচার চান। তারা জানতে চান, তাদের প্রিয়জনদের কী হয়েছিল, কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তাদের নিখোঁজ হওয়ার জন্য কারা দায়ী। তাদের এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বিএনপি’র চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও স্পষ্টভাবে বলেছেন, বিগত সরকারের আমলের গুম-খুনের বিচার হতে হবে। দৈনিক যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উঠে এসেছে- গুম-খুনের দায়ে শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের বিচার না হলে অন্যায়ের সুযোগ আবার তৈরি হতে পারে। তিনি আরও বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করা জরুরি এবং অন্যায়কারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
তবে বিচার হতে হবে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে। প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়ন এবং আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচারই হতে হবে আমাদের পথ। কারণ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো অপরাধের বিচারই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ভিত্তিতে হতে পারে না।
বর্তমান সরকার শুধু অতীতের ঘটনা স্মরণ করতে চায় না; ভবিষ্যতে যেন আর কোনো মানুষ গুমের শিকার না হন, সেই নিশ্চয়তাও প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ২০২৬ সালে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের মাধ্যমে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গুমের ফলে মৃত্যু ঘটলে বা দীর্ঘ সময় পরও ব্যক্তিকে উদ্ধার করা না গেলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখার প্রস্তাবও রয়েছে।

এ ধরনের উদ্যোগ শুধু একটি আইন প্রণয়নের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে, ভবিষ্যতে কোনো নাগরিককে তার রাজনৈতিক মত, বিশ্বাস, পরিচয় বা অন্য কোনো কারণে বেআইনিভাবে তুলে নিয়ে যাওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কোনো সংস্থা বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার অপব্যবহারও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।
আজ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো-আমরা কি সেই বাংলাদেশ চাই, যেখানে একটি পরিবার বছরের পর বছর একজন মানুষের অপেক্ষায় থাকবে না? আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে কোনো রাজনৈতিক মত, বিশ্বাস বা পরিচয়ের কারণে কাউকে অন্যায়ভাবে তুলে নেওয়া হবে না। কোনো পরিবারকে অন্ধকারে রেখে দেয়া হবে না। কোনো মা তার সন্তানের ভাগ্য জানার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করবেন না। কোনো শিশু বাবার ফিরে আসার আশায় শৈশব পার করবে না।

গুমের শিকার পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু সহানুভূতি প্রকাশে শেষ হতে পারে না। তাদের সত্য জানাতে হবে, ন্যায়বিচারের পথ খুলে দিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় মানবিক, চিকিৎসা ও সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের পাশে রাষ্ট্রকে দাঁড়াতে হবে, তাদের কথা শুনতে হবে এবং তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা, রাষ্ট্রকে তাদের বলতে হবে-আপনারা একা নন। আপনাদের কান্না রাষ্ট্র শুনছে। আপনাদের অপেক্ষা রাষ্ট্র দেখছে। আপনাদের প্রশ্ন রাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
যে মা আজও দরজার দিকে তাকিয়ে আছেন, তার চোখের পানি যেন আর বৃথা না যায়। যে সন্তান আজও বাবার একটি স্পর্শের অপেক্ষায় আছে, তার অপেক্ষার যেন একটি উত্তর আসে। যে স্ত্রী বছরের পর বছর স্বামীর ফেরার আশায় দিন গুনছেন, তার বুকের ভেতরের সেই দীর্ঘশ্বাস যেন একদিন থামে।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক-বাংলাদেশ আর কখনো গুমের অন্ধকারে ফিরে যাবে না। এই রাষ্ট্রে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার থাকবে, মানুষের নিরাপত্তা থাকবে, আইনের শাসন থাকবে এবং অপরাধের বিচার হবে।

আর কোনো পরিবারকে যেন প্রিয়জনের ভাগ্য না জেনে বছরের পর বছর অপেক্ষার প্রহর গুনতে না হয়। কোনো মায়ের চোখের পানি যেন আর রাষ্ট্রের কাছে অদৃশ্য না থাকে। কোনো শিশুর শৈশব যেন আর বাবার অপেক্ষায় থেমে না যায়। কোনো স্ত্রী যেন প্রিয়জনের ফিরে আসার অনিশ্চয়তায় জীবন কাটাতে বাধ্য না হন। কোনো পরিবার যেন আর অন্ধকারে হারিয়ে না যায়।
মানুষের জীবন, মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষিত থাকবে-আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে-এমন একটি বাংলাদেশই হোক আমাদের প্রত্যাশা। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক, রাষ্ট্রের কাছে প্রতিটি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা সমান গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক: প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব, সম্পাদক ও প্রকাশক দৈনিক দিনকাল, আহ্বায়ক, আমরা বিএনপি পরিবার ও সদস্য, বিএনপি মিডিয়া সেল।