বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ রাজা হিসেবে পরিচিত উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী রাজা ওয়ো নিয়িম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থ ৩৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসেছিলেন তিনি। ১৯৯৫ সালে পিতার মৃত্যুর পর পশ্চিম উগান্ডার তোরো রাজ্যের রাজা হন ওয়ো। শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তোরো রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্যালভিন রওমিরে আকিকি। তবে মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল।
উগান্ডার এক মন্ত্রী স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাজা ওয়ো গুরুতর অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রেও গিয়েছিলেন। তোরো উগান্ডার প্রাচীন রাজ্যগুলোর একটি। বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতার পর দেশকে একীভূত করার লক্ষ্যে প্রজাতান্ত্রিক সরকারের মাধ্যমে এসব ঐতিহ্যবাহী রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করা হয়েছিল। তবে ১৯৯৩ সালে রাজতন্ত্রগুলো পুনর্বহাল করা হয়। বর্তমানে এসব রাজপরিবারের কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই। আইন অনুযায়ী তারা রাজনীতিতেও সরাসরি যুক্ত হতে পারেন না। তবে দেশটির বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে রাজাদের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। ১৮৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত তোরো রাজ্যের ১৩তম রাজা ছিলেন ওয়ো। তোরো রাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রাজা আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহিত না হলেও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী রয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাজমুকুটের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হয়েছে। মহামান্য একজন রাজপুত্রকে উত্তরাধিকারী হিসেবে রেখে গেছেন। তোরো রাজ্যের ঐতিহ্য ও রীতিনীতি অনুযায়ী যথাসময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হবে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ সিংহাসনাসীন রাজা হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন ওয়ো। দুই মিলিয়নেরও বেশি মানুষের ওপর সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব ছিল তার। তার মৃত্যু অনেক উগান্ডাবাসীর জন্য আকস্মিক ধাক্কা হয়ে এসেছে। কারণ তিনি কতটা অসুস্থ ছিলেন, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের অনেকেই অবগত ছিলেন না। শুক্রবার উগান্ডার পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার থমাস তাইয়েবওয়া বলেন, এটি মেনে নেয়া অত্যন্ত কঠিন। শৈশবে রঙিন পোশাকে সজ্জিত ওয়ো ছিলেন কৌতূহলী শিশু এবং লাখো মানুষের ভালোবাসার পাত্র। সিংহাসনে আরোহণের সময় তিনি তোরো জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যান। এরপর তার নাম হয় রাজা ওয়ো নিয়িম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থ।
প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত রাজ্যের দায়িত্ব পালনে তাকে সহায়তা করেন রাজপরিবারের নিযুক্ত রিজেন্টরা। ১৮ বছর বয়সে তিনি নিজেই রাজ্যের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। লিবিয়ার সাবেক নেতা কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি তোরো রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। গাদ্দাফি একাধিকবার উগান্ডা সফর করেন এবং ২০১১ সালের অক্টোবরে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাজা ওয়ো ও তার মা, রানি মাদারকে সমর্থন করেছিলেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওয়ো শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন এবং নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখতেন। মৃত্যুর সময়ও তিনি অবিবাহিত ছিলেন। ফলে উগান্ডায় তাকে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত অবিবাহিত পুরুষদের একজন হিসেবে দেখা হতো। নিজের জনগণের কাছেও তিনি অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন। তরুণদের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং এইচআইভি/এইডস বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে তিনি কাজ করেছেন। মন্ত্রী মার্গারেট মুহাঙ্গাসহ অনেকেই তার মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। মুহাঙ্গা জানিয়েছেন, রাজা ওয়োর স্মরণে ১০ লাখ গাছ লাগানো হবে। তোরো রাজ্যের রাজধানী পশ্চিম উগান্ডার একটি প্রত্যন্ত শহর, যা কঙ্গো সীমান্তের কাছে অবস্থিত। তোরো রাজ্যের জনগোষ্ঠী বাতোরো নামে পরিচিত।
