যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা। কাতারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়ার পর, প্রণালিটিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল শুরুর লক্ষ্যে একগুচ্ছ শর্তের তালিকা তৈরি করতে সম্মত হয়েছে তেহরান। এ খবর দিয়েছে রয়টার্স।
বৃহস্পতিবার তেহরানে ইরানের শীর্ষ নেতাদের সাথে বৈঠক করেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, বৈঠকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতার গুরুত্বের বিষয়টি তিনি তুলে ধরেছেন। এরপর ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই আল মানার টিভিকে জানান, মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে প্রণালিটি উন্মুক্ত করার শর্তাবলি প্রস্তুত করছে ইরান। তিনি আরও জানান, ওমানের সাথে একটি যৌথ নৌ-করিডোর চালুর বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট চ্যানেল দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে পারবে—তবে তার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে। অতীতে ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে মার্কিন বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এদিকে ওয়াশিংটন ইরানের সাথে সরাসরি কোনো সংলাপে না গিয়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ওপর জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পেতে রাখা মাইনগুলো অপসারণ করেছে এবং আন্তর্জাতিক নৌপথ এখন উন্মুক্ত। তবে মার্কিন দাবির পরও ইরানি হামলার আশঙ্কায় অধিকাংশ বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথ এড়িয়ে চলছে। ফলে বর্তমানে স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র ৫ থেকে ১৫ শতাংশ জাহাজ চলাচল করছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৌশলগত এই প্রণালিতে ৭০টি নৌ-হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৯ জন নাবিক।
