শ্রমিক কোটায় ঘুষকাণ্ডে মালয়েশিয়ার সাবেক মানবসম্পদ মন্ত্রী সারাভানান অভিযুক্ত

হতে পারে ২০ বছরের জেল এবং জরিমানা

শ্রমিক কোটায় ঘুষকাণ্ডে মালয়েশিয়ার সাবেক মানবসম্পদ মন্ত্রী সারাভানান অভিযুক্ত

ফন্ট সাইজ:

বৈদেশিক শ্রমিক নিয়োগের কোটা অনুমোদনে ১.০৯৭ মিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন মালয়েশিয়ার সাবেক মানবসম্পদ মন্ত্রী এবং মালয়েশিয়ান ইন্ডিয়ান কংগ্রেস (এমআইসি)-এর সহ-সভাপতি এম. সারাভানান (৫৮)। দোষী সাব্যস্ত হলে এই দুর্নীতি মামলায় তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা জানিয়েছে, আজ (২৮ আগস্ট) সকালে কুয়ালালামপুরের সেশন কোর্টে বিচারক আজুরা আলউইর এজলাসে সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনটি দুর্নীতি মামলা দায়ের করা হয়। বিচারক অভিযোগ পড়ে শোনালে সারাভানান নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বিচার প্রার্থনা করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, 'টিওয়াইকেবি ইঞ্জিনিয়ারিং এসডিএন বিএইচডি নামক একটি প্রতিষ্ঠানের ১,০০০ জন বৈদেশিক শ্রমিকের কোটা অনুমোদনের বিনিময়ে সারাভানান পর পর তিন দফায় এই অর্থ ঘুষ হিসেবে নেন।
২০২২ সালের ১৬ জুন বু জলিল গলফ অ্যান্ড কান্ট্রি রিসোর্টে এবং ৭ জুলাই বাংসারের জালান তেলাউই ৩-এ মিডলম্যান সৈয়দ আমিরুল সৈয়দ আহমেদের (৩৮) মাধ্যমে ভেক্টিকা রিসোর্সেস এসডিএন বিএইচডি-এর পরিচালক তান টেক লিমের (৬৫) কাছ থেকে নগদ যথাক্রমে ১ লাখ ৫০ হাজার ও ৩ লাখ ৫০ হাজার রিঙ্গিত গ্রহণ করেন। একই বছরের ৭ জুলাই তামান ডেসার ওল্ড ক্লাং রোড শাখায় মেব্যাংক ইসলামিক বারহাদে 'বিগ সেভেন ভেঞ্চারস এসডিএন বিএইচডি'-এর অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া একটি চেকের মাধ্যমে একই ব্যক্তির কাছ থেকে আরও ৫ লাখ ৯৭ হাজার রিঙ্গিত নেন বলে জানিয়েছে বারনামা ও উতুসান মালয়েশিয়া।

দেশটির এমএসি-এর দায়ের করা তিনটি অভিযোগই ২০০৯ সালের মালয়েশিয়ান এন্টি-করাপশন কমিশন আইনের ১৬(এ)(বি) ধারায় আনা হয়েছে, যা আইনের ২৪(১) ধারার অধীন শাস্তিযোগ্য। এই ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ ২০ বছরের জেল এবং ঘুষের অংকের কমপক্ষে পাঁচ গুণ অথবা ১০ হাজার রিঙ্গিতের মধ্যে যেটি বেশি, সেই পরিমাণে জরিমানার বিধান রয়েছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দুর্নীতি দমনে আনোয়ার ইব্রাহিম সরকারের নেওয়া জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবেই প্রভাবশালী এই নেতার বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও জামিন প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতে শুনানি অব্যাহত রয়েছে।