সহযোগীদের খবর

৬২ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত, বেড়েছে লোডশেডিং

ফন্ট সাইজ:

৬২ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত, বেড়েছে লোডশেডিং। প্রথম আলোর শিরোনাম। এতে বলা হয়, চলমান গ্যাস–সংকটের সঙ্গে কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহস্বল্পতা দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে হঠাৎ করে দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। আর সব সময়ই কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণে থাকে, এখনো আছে। সব মিলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। এ সময় গরমে চাহিদা বাড়তে থাকায় বেড়েছে লোডশেডিং, বাড়ছে ভোগান্তি।

দেশে এখন মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩৭টি। এর মধ্যে ৬৪টি কেন্দ্র সরকারি, ৭০টি বেসরকারি ও ৩টি কেন্দ্র ভারত ও চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য বলছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। যার মধ্যে ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ ছিল। বাকিগুলো সীমিত সক্ষমতায় উৎপাদন করেছে। ফলে গতকাল দিনের বেলাতেই সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট।
এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। প্রায় এক মাস ধরে চলছে লোডশেডিং। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কমে, গরম পড়লে এটি বেড়ে যায়। শুরুতে লোডশেডিংয়ের পুরোটাই ঢাকার বাইরে চাপানো হয়েছে। তবে ১২ আগস্ট রাত থেকে সরকারি নির্দেশনায় ঢাকাতেও লোডশেডিং করা হচ্ছে। প্রতিদিন ঢাকার কোনো একটি এলাকায় একবার এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং করার কথা থাকলেও সেটি মানা হচ্ছে না।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জালোওয়াশান আখতার খান বলেন, প্রতিদিন একাধিক বার লোডশেডিং হচ্ছে। গতকালও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দুবার লোডশেডিং হয়েছে। এর মধ্যে জেনারেটর নষ্ট হয়ে গেছে। লিফটে আটকে পড়ার ভীতি কাজ করে। বাসায় গ্যাসও থাকে না। তাই বাড়তি খরচ করে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।

ঢাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ করে ডিপিডিসি ও ডেসকো। দুই কোম্পানির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাত ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৫০ মেগাওয়াট, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট ও ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কোনো লোডশেডিং করা হবে না। কোনো এলাকায় একবারের বেশি লোডশেডিং হবে না। তার মানে ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার একজন গ্রাহক মাত্র ১ ঘণ্টা লোডশেডিং পাবেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যুতের সরবরাহ বুঝে এর ব্যত্যয় করতে হচ্ছে।
পিডিবি ও পিজিসিবি সূত্র বলছে, এর আগে এ মাসে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ১০ আগস্ট। ওই দিন ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছিল। ৯ আগস্ট থেকে এক সপ্তাহ টানা সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে গড়ে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট। এরপর এটি কমে এলেও দুই দিন ধরে আবার বাড়ছে। জ্বালানি তেল থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দুটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ। আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও পুরো সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের সরবরাহ বাড়ছে না। আবার চাইলেও তেলচালিত কেন্দ্র থেকে সব সময় উৎপাদন করা যায় না, মাঝেমধ্যে বিরতির কারণে অর্ধেক সক্ষমতা ব্যবহার করা যায়। এতে করে বিদ্যুৎ ঘাটতি কিছুটা বেড়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রে ত্রুটি ও জ্বালানিসংকট
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য বলছে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। গতকাল সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের সময় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৪৬ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ২৮২ মেগাওয়াট। তার মানে অর্ধেকের বেশি সক্ষমতা বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই বসে ছিল। গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা আছে ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করা যাচ্ছে না। গ্যাসের সংকটে কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ কমিয়ে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।

জ্বালানি তেলচালিত কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ালে খরচ আরও বেড়ে যাবে। তবু সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তেলচালিত কেন্দ্র বেশি হারে চালাতে বলা হয়েছে। রাতে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন করা হচ্ছে। দিনে এটি দেড় থেকে দুই হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে থাকছে। জ্বালানি তেল থেকে উৎপাদন ক্ষমতা আছে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। পিজিসিবি সূত্র বলছে, গতকাল ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি তেলের সরবরাহস্বল্পতা ছিল।

পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে ৮টি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা এখন প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট। গতকাল উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার মেগাওয়াটের কম। কারিগরি ত্রুটির কারণে পটুয়াখালীর পায়রা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ। বড়পুকুরিয়া কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটি আছে। এর বাইরে ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা দেড় হাজার মেগাওয়াট। কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়েছে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। দিনের বেলায় ৯০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করলেও সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ দিচ্ছে তারা।
ঢাকার বাইরে সারা দেশের গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৮০টি সমিতি। আরইবির পাশাপাশি কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পিডিবি। আরইবি সূত্র বলছে, সরবরাহ ঘাটতির কারণে তাদের একই এলাকায় একাধিকবার করে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। গত বুধবার রাত ১২টায় সারা দেশে মোট লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৮২৮ মেগাওয়াট। একই সময়ে আরইবির এলাকায় লোডশেডিং হয়েছে ২ হাজার ৪৭০ মেগাওয়াট।

বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বিইপ্পার সাবেক সভাপতি ইমরান করিম প্রথম আলোকে বলেন, ২০২০-২০২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে তেলচালিত কেন্দ্রগুলো ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। এরপর বকেয়া বাড়তে থাকলে উৎপাদন কমানো হয়। লোডশেডিং বাড়তে থাকে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে বকেয়াসহ পিডিবির যেসব বিরোধ আছে, সেগুলো নিষ্পত্তি করা হলে এখনো তেলচালিত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
কালের কণ্ঠের একটি খবরের শিরোনাম— আমন্ত্রণ না পেলেও ইতিবাচক সরকার। এতে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার প্রসঙ্গ ওঠে এসেছে। এখনো মক্কা প্যাক্টে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি ঢাকা। তবে সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তবে এরই মধ্যে বাংলাদেশের এই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে চলছে নানা তর্ক-বিতর্ক।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির ব্যপ্তি, লাভ-ক্ষতি ও বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির কথা চিন্তা করেই এই জোটে যাওয়ার কথা ভাবতে হবে। বাংলাদেশকে এই প্যাক্টে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কি না, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে আমন্ত্রণ পাওয়ার আগেই বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান, এর সুবিধা-অসুবিধা কিংবা ভবিষ্যৎ সামরিক দায়বদ্ধতা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটিকে অনেকটাই আগাম হিসাব-নিকাশ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
দ্য বিজনেস স্ট্যার্ন্ডাডের খবর— Govt eyes 4,000MW from rooftop solar in one year; এতে বলা হয়, এক বছরের মধ্যে রুফটপ সোলার থেকে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন দ্রুত বাড়াতে সরকার বাংলাদেশের রুফটপ সোলারের (ভবনের ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা) বাজারকে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করতে যাচ্ছে।

এর আওতায় এক বছরের মধ্যে চার হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

গত ১৯ই অগাস্ট অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ বিভাগের একটি সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ বা সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনারই অংশ এই উদ্যোগ। ২৫শে অগাস্ট বেসরকারি সৌরবিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর সাথে আয়োজিত পৃথক এক সভায় বিদ্যুৎ বিভাগ জানতে চেয়েছে কীভাবে দ্রুততম সময়ে চার হাজার মেগাওয়াট রুফটপ সোলার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। ওই সভায় উপস্থিত একটি সৌরবিদ্যুৎ কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই খাতকে আকর্ষণীয় করে তুলতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদেরকে প্রথম ছয় মাসে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।

নয়া দিগন্তের প্রধান খবর— প্রথম দিনেই উত্তপ্ত সংসদ। এই খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবস গতকাল বৃহস্পতিবার সম্পূরক প্রশ্নোত্তরের সময় বিরোধী দলের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্যে তুমুল হট্টগোল ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্যকে 'শাহবাগ' ও 'পল্টনের বক্তৃতা'র সাথে তুলনা করার পর সংসদ কক্ষে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলের সদস্যদের প্রতিবাদ, মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার, নিঃশর্ত দুঃখ প্রকাশ এবং অসংসদীয় মন্তব্য হিসেবে তা সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার দাবিতে বারবার স্থবির হয়ে পড়ে অধিবেশন। একপর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদের ভবিষ্যৎ, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা এবং সংসদ সদস্যদের আচরণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

টাইমস অব বাংলাদেশের প্রথম পাতার শিরোনাম— Silence of the strings: Attacks, vandalism cripple Bangladesh's music economy; অর্থাৎ সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধা: বাদ্যযন্ত্রের বাজার মন্দা।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, দুই বছর ধরে সারাদেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে বাধা দেওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইনসে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে মাদ্রাসা ছাত্ররা ভাঙচুর চালায়। একই দিনে কিশোরগঞ্জ পুরোনো স্টেডিয়ামে একটি ব্যান্ড শো'র আয়োজনে বাধা দেয় ইমাম-উলামা পরিষদ। এসব ঘটনার সরাসরি ধাক্কা এসেছে বাদ্যযন্ত্রের ব্যবসায়। রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড, সায়েন্স ল্যাব, বসুন্ধরা সিটি কিংবা শাঁখারীবাজারের মতো বড় বাদ্যযন্ত্রের বাজারগুলোতে এখন নীরবতা। একসময় যেখানে বিক্রেতারা ক্রেতাদের সামলাতে ব্যস্ত থাকতেন, সেখানে এখন দিনের পর দিন বেচাকেনা ছাড়া সময় পার করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, দেশে কনসার্ট ও স্টেজ শো কমে যাওয়ার কারণেই বাদ্যযন্ত্রের বাজারে এই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। কনসার্ট বন্ধের প্রভাব পড়েছে শিল্পীদের রুজি-রোজগারেও। গ্রাম - শহরে সমানতালে লোডশেডিং , ভোগান্তি। এতে বলা হয়, মাঝারি তাপমাত্রার আবহাওয়ার মধ্যেও সারা দেশে বিদ্যুতের লোডশেডিং গড়ে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের ওপরে অবস্থান করছে । গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ বিভাগের এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে , চলতি মাসের শুরুর দিকে গ্যাসের তীব্র সংকটকালীনের মতোই লোডশেডিং ঘণ্টায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে । সাধারণত গ্রাম এবং মফস্বল শহরের ওপরই লোডশেডিংয়ের মূল ধাক্কা গেলেও এবার রাজধানীবাসীকেও ভুগতে হচ্ছে । বিদ্যুতের অভাবে ঢাকা শহরে বিভিন্ন এলাকায় পালা করে দিনে চার থেকে পাঁচবার লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে । গ্রামের অবস্থা আরও বেশি খারাপ । গতকাল বেলা ৩ টায় সারা দেশে ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয় । এদিন দিনের বেলায়ও লোডশেডিং ছিল গড়ে ২ হাজার মেগাওয়াট । বিদ্যুতের চাহিদা ১৬
হাজার ৬০০ এবং জোগান ১৩ হাজার ৫৩৪ মেগাওয়াট হিসাব করে প্রায় ২০ শতাংশ হারে লোডশেডিং হচ্ছিল । খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , ২৪ আগস্ট দুপুর ১২ টায় ঢাকার বিতরণ সংস্থা ডেসকো এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩৯৬ মেগাওয়াট , ওই সময় লোডশেডিং হচ্ছিল ১২০ মেগাওয়াট ;

গ্রাম - শহরে সমানতালে লোডশেডিং
ডিপিডিসি এলাকায় চাহিদা ছিল ১ হাজার ৯৯৯ মেগাওয়াট , লোডশেডিং ছিল ১৬৫ মেগাওয়াট । এ ছাড়া পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় চাহিদা ছিল ২ হাজার ৮৪৩ মেগাওয়াট , লোডশেডিং ছিল ৪৩৭ মেগাওয়াট । তবে গতকাল লোডশেডিংয়ের এই চিত্র বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে । বিদ্যুতের অভাবে রাজধানী শহরে বিভিন্ন এলাকায় পালা করে দিনে চার থেকে পাঁচবার লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে । একবার বিদ্যুৎ গেলে সাধারণত এক ঘণ্টার আগে আসে না । বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ( সা . ) - এর ছুটির দিনেও কোথাও কোথাও দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন ছিল । গ্রামের পরিস্থিতি আগে থেকেই ছিল ভয়াবহ । মাঝে কয়েকটা দিন সামান্য স্বস্তি দিয়ে আবারও দিনে ১০-১২ বার করে বিদ্যুৎ যাওয়া শুরু হয়েছে । দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর একটা বড় অংশ গ্যাসচালিত । গ্যাসের অভাবে এর অনেকগুলোই বসে আছে । বিদ্যুতের ঘাটতির এটা একটা বড় কারণ । সাগরে ভাসমান মার্কিন এলএনজি টার্মিনাল মেরামত হলেও আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ খুব একটা বাড়েনি । ফলে বিগত এক মাসের মতোই গ্যাসের সরবরাহে ঘাটতি বিরাজ করছে ।

যুগান্তরের শিরোনাম ‘ফের আলোচনায় ভারতের হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন’। এতে বলা হয়, ভারতের আসাম রাজ্যের বরনগর থেকে বিহারের কাটিহার পর্যন্ত ৭৬৫ কেভি হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণে বাংলাদেশের ভূমি (করিডর) ব্যবহার নিয়ে আবার আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারত সরকারের তাগাদার পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগ এ ব্যাপারে বেশকিছু কাগজপত্র তৈরি করেছে। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ভারতকে চারটি শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে। এগুলো পালন করলে ওই হাইভোল্টেজ সঞ্চালন লাইন নির্মাণে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো-ভারতকে জানাতে হবে ব্রহ্মপুত্র নদে বাঁধ দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ওই হাইভোল্টেজ লাইন দিয়ে প্রবাহিত করা হবে কি না। কারণ, এতে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দ্বিতীয় শর্ত হলো-নেপাল ও ভুটান থেকে সস্তায় জলবিদ্যুৎ আমদানির জন্য আলাদা গ্রিড লাইন তৈরির সুযোগ বাংলাদেশকে দিতে হবে। তৃতীয়টি হলো-ওই লাইন দিয়ে বাংলাদেশ কী পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে, তা স্পষ্ট করতে হবে। চতুর্থ শর্ত হলো-বাংলাদেশের ওপর দিয়ে লাইন টানার আগে অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি হিসাব করতে হবে।

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ৬ আগস্ট বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় তিনি ৭৬৫ কেভি গ্রিড লাইন নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেন। সাক্ষাৎ শেষে ইকবাল হাসান মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ‘ভারত যেভাবে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে গ্রিড লাইন নিয়ে যেতে চাচ্ছে, সেভাবে আমরা চিন্তা করছি না।

নেপাল, ভারত, ভুটান ও বাংলাদেশ-এই চার দেশ মিলে যৌথ গ্রিড লাইনের কথা ভাবছে ঢাকা। আর এটি নিয়েই আলোচনা করতে চাচ্ছি আমরা।’ জানা যায়, এর আগে জুলাইয়ের শেষে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ দিল্লি সফর করে বিদ্যুৎ ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন সে দেশের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে। সেখানেও বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নেপালের ঢলের পানি আসতে পারে বাংলাদেশেও। সমকালের একটি শিরোনাম। এতে বলা হয়, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর পাহাড়ি ঢলের পানি ভারতের বিহার হয়ে গঙ্গায় মিশে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে আসতে পারে বলে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন। তবে নেপালে যে ভয়াবহ মাত্রার ঢল দেখা গেছে, তা একই শক্তিতে বাংলাদেশে পৌঁছাবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নদীপথে ভাটির দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এই ঢলের সর্বোচ্চ প্রবাহ বা তীব্রতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তারা। তাই আপাতত বাংলাদেশের জন্য আতঙ্কের চেয়ে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানির উচ্চতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নেপালের ভোটি কোশি ও ত্রিশুলি নদী দিয়ে নেমে আসা বন্যার পানি গতকাল বৃহস্পতিবার নারায়ণী-গণ্ডক নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। ভারতের বিহারে গণ্ডক নদী নামে পরিচিত এই নদী হাজিপুর ও সোনপুরের কাছে গঙ্গায় মিশেছে। এরপর গঙ্গার প্রবাহ পূর্বদিকে এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে গঙ্গা বা পদ্মা নামে। তাই নেপালের এই পাহাড়ি ঢলের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থায় পৌঁছানোর ভৌগোলিক পথ রয়েছে। তবে এই ঢল বাংলাদেশে কতটা প্রভাব ফেলবে, সে ব্যাপারে কেউ নিশ্চিত করতে পারেননি।
নেপালের ত্রিশুলি নদী গণ্ডকী নদী অববাহিকার অংশ। দেবঘাটের কাছে কালী গণ্ডকীর সঙ্গে ত্রিশুলি মিলিত হয়ে নারায়ণী নদী তৈরি করেছে। নারায়ণী নদী ভারতের বিহারের বাল্মীকিনগরের কাছে গণ্ডক নামে প্রবেশ করেছে। নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর গণ্ডক অববাহিকায় পানির প্রবাহ বাড়ার আশঙ্কায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন বিহার ও উত্তর প্রদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গণ্ডক নদীর পানিপ্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে। বিহারের বাল্মীকিনগর গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার রাতে সেখানে সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছিল এবং পরে প্রবাহ কমতে শুরু করে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিহারের পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সরণ, মুজাফফরপুর, বৈশালীসহ কয়েকটি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশিনগরেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।


সমকালের আরেকটি খবর—আইনশৃঙ্খলা দেখার দায়িত্বে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ। খবরটিতে বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, মাদক নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি এবং সমন্বয়ের দায়িত্ব ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দেওয়া হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট জেলার উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমেও পরামর্শ দেবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল বললেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা মাঠ প্রশাসনের দৈনন্দিন কাজে যদি অযাচিত হস্তক্ষেপ না করে, তাহলে এটা ভালো সিদ্ধান্ত। আর যদি অযাচিত হস্তক্ষেপ করা হয়, তাহলে সুফল মিলবে না। বরং জটিলতা তৈরি হবে।

গুদামে সার, মাঠে সংকট- বরাদ্দের বড় অংশই তুলছেন না ডিলাররা। এটি ইত্তেফাকের খবর। এতে বলা হয়, দেশের গুদামে সারের মজুত পর্যাপ্ত, কৃষকের জন্য বরাদ্দও আছে। কিন্তু সেই সারই সময়মতো মাঠে পৌঁছাচ্ছে না। কোথাও বরাদ্দের সার তুলছেন না ডিলার, কোথাও কৃষককে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে, আবার কোথাও সরকারি দামের চেয়ে বেশি টাকা দিয়েও মিলছে না সার। ফলে কাগজে কলমে সারের উদ্বৃত্ত থাকলেও আমন মৌসুমে মাঠে তৈরি হয়েছে সংকট।

কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের চলতি আগস্ট মাসের জেলাভিত্তিক তথ্যেই বরাদ্দ ও উত্তোলনের বড় ব্যবধানের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। সারা দেশে আগস্টে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ রয়েছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৪১২ মেট্রিক টন। ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬১২ মেট্রিক টন। অর্থাত্ বরাদ্দের বড় একটি অংশ তখনো কৃষক পর্যায়ে পৌঁছেনি। ঢাকা বিভাগের আট জেলায় আগস্টে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিল ১৯ হাজার ৯১৮ মেট্রিক টন। ২০ আগস্ট পর্যন্ত উত্তোলন হয়েছে ৮ হাজার ৯৬৫ মেট্রিক টন। ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় ৩১ হাজার ৪২৫ মেট্রিক টন বরাদ্দের বিপরীতে উত্তোলন হয়েছে ৯ হাজার ৯৯২ মেট্রিক টন। সিলেট বিভাগের চার জেলায় ৯ হাজার ৫৪১ মেট্রিক টন বরাদ্দ থাকলেও ২০ আগস্ট পর্যন্ত উত্তোলন হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৬৭৯ মেট্রিক টন।


শুধু ইউরিয়া নয়, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপির ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র রয়েছে। কুমিল্লা জেলায় আগস্টে টিএসপির বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২৭ মেট্রিক টন, ২০ আগস্ট পর্যন্ত কৃষক পর্যায়ে বিতরণ হয়েছে ৪৯৮ মেট্রিক টন। কুমিল্লা বিভাগের তিন জেলায় ২ হাজার ৭৭২ মেট্রিক টন বরাদ্দের বিপরীতে বিতরণ হয়েছে ১ হাজার ১৭১ মেট্রিক টন। খুলনা বিভাগের চার জেলায় ৪ হাজার ৩৩৭ মেট্রিক টন টিএসপি বরাদ্দের বিপরীতে বিতরণ হয়েছে ২ হাজার ৬৩৭ মেট্রিক টন।

কৃষকের হাতে নেই, অথচ মজুত পর্যাপ্ত

সরকারের হিসাব অনুযায়ী দেশে সারের মজুত পর্যাপ্ত। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, আগস্টে সারা দেশে টিএসপির চাহিদা ৬৯ হাজার মেট্রিক টন, বিপরীতে মজুত ৩ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন। ডিএপির মাসিক চাহিদা ৮৯ হাজার টন, মজুত ৩ লাখ ২৭ হাজার টন। এমওপির চাহিদা ৭৮ হাজার টন, মজুত ১ লাখ ৪৮ হাজার টন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ইউরিয়া মজুত রয়েছে ৪ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সমপ্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে মোট ১৩ দশমিক ৬৫ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া ৪ দশমিক ৮২২ লাখ, টিএসপি ৩ দশমিক ৬৯ লাখ, ডিএপি ৩ দশমিক ৬৮ লাখ এবং এমওপি ১ দশমিক ৪৬ লাখ মেট্রিক টন।