জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার চরবানিপাকুরিয়া ইউনিয়নের রায়ের বাকাই এলাকার নাছিমা মোজাহারুল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও প্রায় টানা দুই বছর বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এসব বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে এলাকাবাসী। অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কলেজে অনুপস্থিত। তিনি জামালপুর পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। বিগত সরকারের আমলে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দায়ের করা একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী দেখানো হলেও বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি খুবই কম কিংবা নেই বললেই চলে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব বিষয়ে অনিয়ম চলতে থাকলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নাছিমা মোজাহারুল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ শাহনাজ পারভীন বলেন, অনেক সময় গাড়ি দিয়ে আসতে লেট হলেও আমরা কলেজে আসি। অধ্যক্ষ স্যারের বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না; তিনি তো আমাদের বস। পলাতক থাকায় এ বিষয়ে নাছিমা মোজাহারুল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মেলান্দহ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, খোঁজখবর নিয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা বলেন, অধ্যক্ষ জেল হাজতে যাওয়ার পরে তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কলেজে অনুপস্থিতির বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
