ভোলার লালমোহন উপজেলায় দুধে পানি মেশানোর অভিযোগে এক বিক্রেতার মাথায় দুধ ঢেলে গোসল করিয়ে অভিনব শাস্তি দিয়েছেন পৌরসভার কসাইখানা পরিদর্শক মো. আব্দুর রাজ্জাক জামাল। ভুক্তভোগী ওই দুধ বিক্রেতা মো. মনজু উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের ফুলবাগিচা এলাকার বাসিন্দা। মাথায় দুধ ঢালার ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার সকালে পৌর শহরের মহাজনপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় দুধে পানি মেশানোর দুধ বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলেন পৌরসভার কসাইখানা পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক জামাল। একপর্যায়ে তিনি ওই বিক্রেতার মাথায় দুধ ঢেলে দেন। এ সময় ওই দুধ বিক্রেতাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেন তিনি। এ ঘটনায় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়।
এদিকে ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর লালমোহনের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। অনেকে এ ঘটনাকে একজন সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে অমানবিক ও অপমানজনক আচরণ এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে লালমোহন পৌরসভার কসাইখানা পরিদর্শক রাজ্জাক জামাল বলেন, মনজু নামে এক বিক্রেতার প্রায় ২০ কেজি দুধে অতিরিক্ত পানি মেশানোর বিষয়টি ধরা পড়ে। ল্যাকটোমিটারে দুধের মাত্রা ২০ থাকার কথা থাকলেও ওই দুধে মাত্রা পাওয়া যায় ৩০। যার জন্য পৌরপ্রশাসক মনজুকে দুধসহ আটক রাখার নির্দেশ দেন। তবে পৌরপ্রশাসক ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর মনজু পুনরায় ওই দুধ বিক্রির জন্য বসেন। পরে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই দুধ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ওই দুধ বিক্রেতার মাথায় ঢেলে দেয়ার জন্য বলেন। একপর্যায়ে কিছু দুধ বিক্রেতার মাথায় ঢালা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরপ্রশাসক মো. সিফাত বিন সাদেক জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
