ঊর্ধ্বতনের কাছে নালিশ

নারীর দিকে শিক্ষা কর্মকর্তার ‘কামাতুর’ দৃষ্টি

ফন্ট সাইজ:

বালাগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও শিক্ষককে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের ২৬শে নভেম্বর এখানে যোগদানের পর তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট একাধিক অভিযোগ পড়েছে। ৩০শে জুন পশ্চিম গৌরীনাথপুর সরকারি স্কুলে তার মনোনীতদের দিয়ে মনগড়া পরিচালনা কমিটি গঠন করেন। অভিভাবক ও স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইউএনও সেই কমিটি স্থগিত করেন বলে জানা গেছে। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে পশ্চিম গৌরীনাথপুর সরকারি স্কুলের অভিভাবকদের পক্ষ থেকে ৪ঠা আগস্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়।

হোছনা বেগম, দিলশানা বেগম ও রুবি বেগম স্বাক্ষরিত অভিযোগে নালিশ জানিয়ে বলা হয়েছে, সুন্দরী প্রধান শিক্ষক থাকা স্কুলগুলোতে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ঘন ঘন পরিদর্শনে যান। ক্লাস বাদ দিয়ে নারী শিক্ষকদের নিয়ে অফিস কক্ষে খোশগল্পে মত্ত থাকেন। ২০শে আগস্ট পশ্চিম গৌরীনাথপুর সরকারি স্কুলে পরিদর্শনে যান তিনি। সেখানে থাকা নারী অভিভাবকদের দিকে ‘অশালীন’ দৃষ্টিতে তাকান সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা। হোছনা বেগম নামে এক অভিভাবকের দিকে ‘কামাতুর’ দৃষ্টিতে তাকালে তিনি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার চোখের আড়ালে চলে যান। তিনি হোছনার পিছু নেন। এতে হোছনা বিব্রত হয়ে বাড়িতে চলে যান। ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত নারী প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা অফিস রুমে লম্বা সময় কাটানোর বিষয়টি এলাকায় চাউর রয়েছে। অফিস কক্ষে অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে অভিভাবকদের পরামর্শে প্রতিবাদ করেন ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক সালমা সুলতানা। এ সময় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সালমার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। তাকে অফিস কক্ষ থেকে বাইরে নিয়ে শাসান, হুমকি দেন। এরপর থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সালমাকে হেনস্তা করতে কোনো কারণ ছাড়াই একাধিকবার শোকজ করেন। সালমাকে মানসিক চাপে রাখতে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অন্যত্র সরিয়ে তার মধ্যে ভীতির সঞ্চার করতে চাচ্ছেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা। আর কেউ যেন তার অপকর্মের প্রতিবাদ করার সাহস না পায়। সালমার কানের পর্দায় সমস্যাজনিত কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৬ই আগস্ট পাঁচদিনের ছুটির দরখাস্ত করেন তিনি। কিন্তু উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে তার ছুটি নামঞ্জুর করেন। এই ঘটনাগুলো উল্লেখ করে ৪ঠা আগস্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সালমা।

এদিকে, উপজেলা শিক্ষা কমিটির সাবেক মহিলা প্রতিনিধি ও সাবেক ইউপি সদস্য কুলসুমা বেগম স্বাক্ষরিত ৪ঠা আগস্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট দেয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, পশ্চিম গৌরীনাথপুর সরকারি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলেকা বেগম সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আঁতাত করে স্কুলের পুরাতন ভবনের দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র গোপনে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করছেন। যদিও আলেকা বেগমের দাবি, এসব অসত্য-বানোয়াট, তিনি বহুমুখী ষড়যন্ত্রের শিকার। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কর্মস্থলে না থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় থাকেন, সময়মতো অফিস করেন না। তিনি নিজেকে ক্ষমতাবান হিসেবে জাহির বলেন, তার ক্ষমতার হাত নাকি মহাপরিচালক পর্যন্ত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষকরা বলেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার অন্যায় কর্মকাণ্ডে অনেক শিক্ষক নিয়মিত স্কুলে না গিয়ে বেতন তোলার সুযোগ পাচ্ছেন। একাধিক স্কুলে দুপুর পর্যন্ত একজন শিক্ষক থাকেন, এরপর স্কুল তালা দিয়ে তারা চলে যান। এ বিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো বিভ্রান্তিকর কথা, তদন্ত হোক আসল সত্য বেরিয়ে আসবে। স্থানীয় একটি স্বার্থবঞ্চিত মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।