সুনামগঞ্জ শহরের ওয়েজখালী এলাকায় ২০১৪ সালে সংঘটিত ওয়ারিশ আলী হত্যা মামলার প্রায় এক যুগ পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে মামলার ১১ আসামির মধ্যে দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া, চারজনকে সাত বছর এবং পাঁচজনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
গতকাল সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আকবর হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেনÑ পৌর শহরের ওয়েজখালী এলাকার গমীর বক্সের ছেলে বাদশা মিয়া ও সুনাফর আলীর ছেলে খেলু মিয়া ওরফে ফেলু মিয়া। আর সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেনÑ রামিজ আলী, নুরুল মিয়া, খোরশেদ আলম ও নুরুজ্জামান। দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেনÑ রাজা মিয়া, জগলু মিয়া, নুর উদ্দিন, সহিনুর মিয়া ও তাহের মিয়া। এ রায়ে ১১ আসামির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের এডিশনাল পিপি এডভোকেট শেরেনুর আলী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট সালেহ আহমদ।
সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় পৌরসভা কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাদী ও আসামিপক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। ২০১৪ সালের ২৮শে জুলাই ঘটনার আগের দিন জুয়েল মিয়ার সঙ্গে সাক্ষী ফয়জুর রহমানের কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন ২৯শে জুলাই ঈদের দিন সকালে ওয়েজখালী পয়েন্টের একটি মসজিদে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ওয়ারিশ আলীসহ কয়েকজন আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ৪ঠা আগস্ট ওয়ারিশ আলী মারা যান।
