স্থানীয়দের ভাষায় ‘কাঁকড়া’ নামে পরিচিত ট্রাক্টর, এই যান এখন সড়কের আতঙ্ক। অভিযোগ আছে, পীরগঞ্জে গত কয়েক বছরে এসব বাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ৩০-এর অধিক মানুষের প্রাণ গেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যে যানকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সেই বাহনই কীভাবে সরকারি-বেসরকারি নানা কাজে ব্যবহৃত হয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সড়ক-মহাসড়কে। বিআরটিএ জানায়, ‘কাঁকড়া’ নামে পরিচিত এসব যানবাহন মূলত কৃষিকাজের জন্য ব্যবহারের উপযোগী। এগুলো সড়কে চলাচলের জন্য অনুমোদিত নয়। এ বিষয়ে বিআরটিএ’র রংপুর মোটরযান পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম জানায়, বৈধ যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড থাকে।
যেমন আসন সংখ্যা, ইঞ্জিনের ক্ষমতা, ব্রেকিং সিস্টেম, লোড বহনের ক্ষমতা, দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও কাঠামোগত নিরাপত্তা।এসব মানদণ্ড পূরণ করে বিআরটিএ’র অনুমোদন পেলে তবেই কোনো যান বৈধ হিসেবে গণ্য হয়। সেই সংজ্ঞা অনুযায়ী সড়ক-মহাসড়কে চলাচলকৃত নসিমন, করিমন, ভটভটি পাওয়ার টিলার, কিংবা ‘কাঁকড়া’ সবই অবৈধ। তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। পীরগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দেখা যায় এসব যানের অবাধ চলাচল। ইটভাটা, পুকুর খনন, ধান বহন, কিংবা নির্মাণকাজে মাটি ও বালু বহনের প্রধান বাহন হয়ে উঠেছে এগুলো।
গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠলেও রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম সংক্ষিপ্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে সরকার যে নির্দেশনা দেবে তা স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে। রংপুর জেলা বার এসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এডভোকেট মো. ফিরোজ কবির নিয়ন জানান, বাস্তবতার কারণে যদি এই যানের প্রয়োজন থাকে, তবে এটিকে সড়ক উপযোগী করতে হবে। পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ ও নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব যানের অধিকাংশ চালকই অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই, নেই ড্রাইভিং লাইসেন্সও। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি সবসময় থেকেই যায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, সরকার বিআরটিএ’র নিয়ম অনুযায়ী এই কাঁকড়া শুধু জমি চাষের জন্যে নির্ধারিত মহাসড়কে অন্য কোনো মাল বহনের জন্য নয়।
