মানবজমিনে সংবাদ প্রকাশ

জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

সাঘাটায় বাংলাদেশ জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে নিহত জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের পরিবারের গোপন বৈঠকের তথ্য পেতে এনএসআই কর্মকর্তা সাজার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। ভুয়া পরিচয় দিয়ে তথ্য আদায়ের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও তুলে নেয়ার হুমকির অভিযোগে অবশেষে জামায়াতের তিন স্থানীয় নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ থানায় আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

গত ২৩শে আগস্ট দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় ‘জামায়াত নেতার কাণ্ড!’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই অভিনব প্রতারণা ও ব্লাকমেইলের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর ২৬শে আগস্ট রাতে সাঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নিহত সালাউদ্দিনের মামা শাহ মো. আতাউর রহমান। বৃহস্পতিবার সাঘাটা থানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

অভিযোগে সাঘাটা উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাঘাটা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক মো. এনামুল হক সরকার (৫০), যুব জামায়াত কর্মী মো. সাজ্জাদ হোসেন শিহাব (২৫) এবং যুব জামায়াতের বোনারপাড়া ইউনিয়ন সেক্রেটারি মো. শাহজাহান আলী (২৮)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ই আগস্ট জামায়াতের আমীর নিহত সালাউদ্দিনের কবর জিয়ারত শেষে তার পরিবারের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন। ওই দিন রাতেই একটি চক্র দু’টি আলাদা মুঠোফোন নম্বর থেকে আতাউর রহমানের মোবাইল ফোনে কল দেয়। ফোনকারীরা নিজেদের এনএসআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জামায়াত আমীরের সঙ্গে পরিবারটির কী কথা হয়েছে তা জানতে চাপ দেয়। তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে তুলে নেয়ার হুমকি দেয়া হয়।

পরবর্তীতে প্রকাশ পাওয়া বিভিন্ন অডিও রেকর্ডে দেখা যায়, স্থানীয় জামায়াত নেতা এনামুল হক সরকারের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় তার সহযোগীরা এনএসআই কর্মকর্তা সেজে এই ফোনগুলো করেছিলেন। মানবজমিনে বিষয়টি উন্মোচিত হওয়ার পর অঞ্চল জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বোনারপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক সাজেদুর রহমানকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।