সুনামগঞ্জে বিয়ের মাত্র দেড় মাসের মাথায় স্বামীর ঘর থেকে টাকা-স্বর্ণালংকার নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নববধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্ত্রী মার্জানা বেগম এবং তার কথিত প্রেমিক মিনহাজুল ইসলাম স্বপন (২৮)-এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী স্বামী নাজমুল হক। গত মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ সদর আমল গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন তিনি।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার আসামিরা হলো, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভৈষবেড় গ্রামের মোছা. মার্জানা বেগম ও তার প্রেমিক কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার রামদী ইউনিয়নের রামদী বড়চড় গ্রামের আলহাজ মিয়ার ছেলে মিনহাজুল ইসলাম স্বপন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলা ও ভিকটিম সূত্রে জানা যায়, গত ৩রা জুলাই মার্জানার সঙ্গে নাজমুল হকের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের কিছুদিন তাদের সংসার ভালো চললেও হঠাৎ মার্জানা সংসারের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ে এবং স্বপনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। স্বামী নাজমুল স্ত্রীকে এ নিয়ে একাধিকবার সতর্ক ও বোঝানোর চেষ্টা করলেও সে কর্ণপাত করেনি। গত ২১শে আগস্ট বিকালে নাজমুল ব্যবসায়িক কাজে স্থানীয় বাজারে যান। এ সুযোগে মার্জানা পূর্বপরিকল্পিতভাবে মোবাইল ফোনে তার প্রেমিককে বাড়িতে ডেকে আনে। পরে নাজমুলের ঘরে ঢুকে ব্যবসার জন্য রাখা ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং কেবিনেটের ড্রয়ারে থাকা প্রায় চার ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যায় মার্জানা। পরে নাজমুল এসে দেখেন তার স্ত্রী বাসায় নেই। পরে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে অপর প্রান্ত থেকে প্রেমিক স্বপন ফোন ধরে জানায় মার্জানা তার সঙ্গে চলে এসেছে এবং সংসার করবে। পরে নাজমুল তাৎক্ষণিক এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ভুক্তভোগী স্বামী নাজমুল বলেন, বিয়ের পর আমাদের সংসার ভালোই চলছিল। হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়াই আমার স্ত্রী টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে তার প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চেয়ে আদালতে একটি মামলা করেছি। অভিযুক্ত মার্জানা ও স্বপনের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মনির হোসেন বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানিয়ে আদালতে একটি নালিশি মামলা করা হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রতন শেখ বলেন, ঘটনার পর ভুক্তভোগী স্বামী থানায় এসে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। জিডি’র সূত্র ধরে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে পুলিশ।
