টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেয়াদোত্তীর্ণ প্রায় অর্ধকোটি টাকার জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন ধরনের ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলে দেয়ার সময় একজনকে আটক করেছে জনতা। বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে।
এসব ওষুধের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার এন্টিবায়োটিক যেমন- এজিথ্রোমাইসিন, সেফিওরক্সিম, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, সেফিক্সিম, সেফ্রাডিন, সেফটিএক্সন, বিভিন্ন শ্বাসকষ্টের ইনহেলার, ডক্সো ফাইলি, মন্টিলুকাস্ট, লিভোসালবুটামল, হৃদরোগের জন্য এটোয়াভাসটেটিন, ক্লপিডগরেল এসপিরিন, প্রেসারের জন্য এমলোডিপিন, আমলোডিপিন বিসাইলেট, এটেনোলন, গ্যাস্ট্রিকের জন্য বিভিন্ন ক্যাপসুল ইনজেকশন, বাচ্চাদের নাপা, হিস্টাসিন, ছাল বোটামল, বিভিন্ন ধরনের দামি এন্টিবায়োটিক ওষুধসহ গজ ব্যান্ডেজ, বাটারফ্লাই, প্রেশার মাপার যন্ত্র, সিজার, সার্জিক্যালসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ ও বিভিন্ন সামগ্রী যমুনা নদীতে ফেলতে গেলে ট্রাকসহ চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন তারা। বিষয়টি নিয়ে গোটা জেলা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।
জানা যায়, বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে ঘাটাইলের পার্শ্ববর্তী উপজেলা ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী টি রোড সংলগ্ন স্থান দিয়ে মালবোঝাই একটি ট্রাক যমুনা নদীর দিকে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা ট্রাকটি জব্দ করে ভুয়াপুর থানা পুলিশকে খবর দেয়। এ সময় ট্রাকের মধ্যে থাকা তিনজন পালিয়ে যায়। তবে ট্রাকচালককে আটক করে স্থানীয়রা। পরে ঘটনাস্থলে ভূঞাপুর থানা পুলিশ আসলে চালককে তাদের কাছে সোপর্দ করে। এ সময় ট্রাকচালক আজমত জানান, ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভাড়া করেছে। আগেও একই পন্থায় সরকারি ওষুধ যমুনা নদীসহ একাধিক স্থানে ফেলা হয়েছে বলেও চালক স্থানীয়দের কাছে স্বীকার করেন।
এদিকে ওষুধ ফেলে দেয়ার ঘটনা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হাজী বিল্লাল হোসেন, পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন হেলাল, পৌর কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম, যুবদল নেতা সাগর, জুয়েলসহ অসংখ্য বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতা ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেরাও করে। তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ করে। এসময় টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. এফ এম মাহবুবুল আলম, ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নঈম মুহাম্মদ সোহেল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শুভময় পাল স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নঈম মো. সোহেল বলেন, এ ঘটনার দায় আমরা কখনোই এড়াতে পারি না। তিনি এ ব্যাপারে অবহিত নন উল্লেখ করে বলেন, ইতিমধ্যেই আমরা চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত টিম গঠন করেছি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনা হবে।
অপরদিকে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. এফ এম মাহবুবুল আলম মানবজমিনকে বলেন, ঘটনাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই। গত একমাস আগে আমি প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অর্ডার দিয়েছি, হাসপাতালে যত পরিত্যক্ত জিনিসপত্র-ওষুধপত্র রয়েছে সেগুলোর লিস্ট করে জমা দেয়ার জন্য। তারপরও এত বড় ঘটনা কীভাবে ঘটলো আমি বুঝতে পারছি না। এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম রেজাউল করিম বলেন, জনগণ ওষুধ ও ট্রাক আটক করেছে। পরে আমরা থানায় এনেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
