শিক্ষার্থী ছাড়াই চলছে মাদ্রাসার বিজ্ঞান বিভাগ

শিক্ষার্থী ছাড়াই চলছে মাদ্রাসার বিজ্ঞান বিভাগ

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহের নান্দাইলের চকমতি ডিএস ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসায় টানা সাত বছর ধরে আলিম পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী নেই। নেই কোনো ল্যাবরেটরি, বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম বা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। অথচ কাগজে-কলমে এই বিভাগে কর্মরত রয়েছেন দু’জন শিক্ষক এবং তারা নিয়মিত সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা তুলছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অনিয়মে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। জানা যায়, ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসায় কাগজে-কলমে বর্তমানে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫৫৬ এবং শিক্ষক রয়েছেন ২৬ জন। মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে আলিম বিজ্ঞান অনুমোদন পাওয়ার পর ২০০৫ পর্যন্ত শিক্ষার্থী ছিল।

এরপরও ২০১৯ সালে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে আলিম বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন মাহফুজা মুর্শেদা ও শাহনাজ আক্তার রূপা। যোগদানের পরই তারা জানতে পারেন এই বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী নেই। এরপর সাত বছর কেটে গেলেও নতুন কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি। সরজমিন দেখা যায়, মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কক্ষের পাশে একটি পরিত্যক্ত কক্ষের দরজায় লেখা রয়েছে ‘বিজ্ঞান বিভাগ’। স্যাঁতসেঁতে ওই কক্ষে কোনো টেবিল, বেঞ্চ বা বিজ্ঞানের সরঞ্জাম নেই। জানালা ভাঙা এবং ভেতর থেকে দুর্গন্ধ আসছে। কক্ষটি ও ল্যাবরেটরিটি সর্বশেষ কবে ব্যবহৃত হয়েছিল, তা অধ্যক্ষও বলতে পারেননি। মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকায় মোবাইল ফোনে ?শিক্ষার্থী না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক মাহফুজা মুর্শেদা ও শাহনাজ আক্তার রূপা বলেন, চেষ্টা করেও শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আমাদের কিছু করার নেই। দাখিল পর্যায়ে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী থাকলেও তারা কেন আলিমে ভর্তি হচ্ছে না- এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি তারা।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আজিজুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থী সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং শিক্ষকদের দিয়ে অন্য শ্রেণিগুলোতে পাঠদান করানো হচ্ছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মফিজুর ইসলাম বলেন, আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) লুৎফুন নাহার জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, বিভাগ চালু রাখা ও এমপিও সুবিধা বহাল রাখার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন শিক্ষার্থী থাকার বাধ্যতামূলক শর্ত রয়েছে। শিক্ষার্থী শূন্য বিভাগে বছরের পর বছর সরকারি অর্থ ব্যয় হওয়া নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনের নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।