মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ঘোনা গ্রামের এক হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান সুমনা রানী দাস দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। কিন্তু পরিবারের চরম অর্থনৈতিক সংকট যখন তার উচ্চশিক্ষার পথকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছিল, ঠিক তখনই আশার আলো হয়ে পাশে দাঁড়ালেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। জানা যায়, দীর্ঘ ১৪ বছর আগে একটি চা কোম্পানির তৎকালীন ম্যানেজার বাবা সেন্টু চন্দ্র দাস মারা যান। বাবার অকাল প্রয়াণে পরিবারটির অভিভাবকত্বের ভার পড়ে মা যমুনা রানীর ওপর। তিনি হাসপাতালে সাধারণ একটি চাকরি করে সংসার ও মেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগাতেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনিও প্যারালাইজড হয়ে পড়েন। খাদ্যমন্ত্রীর সহযোগিতার বিষয়ে সুমনার বড় বোন সুষমা রানী দাস আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, একসময় সংসারে কিছুটা সচ্ছলতা ছিল। বাবার মৃত্যুর পর আমাদের মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়ে। এরপর কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে মা সংসারের হাল ধরলে তিনিও প্যারালাইসিস হয়ে একপাশ অবশ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, আমরা দুই বোন। ছোট বোন সুমনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগে পড়াশোনা করছে এবং রোকেয়া হলে থাকে। ঢাকায় একটি প্রাইভেট পড়িয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে তার খুব কষ্ট হচ্ছে। ছোট বোনের লেখাপড়ার অনিশ্চয়তা এবং সংসারের দৈন্যতার খবর শোনার পর রিতা আপা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার মানবতা এবং আর্থিক সহযোগিতার কারণে ছোট বোনের পড়াশোনা ও অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খরচে আমাদের অনেক বড় উপকার হলো। গত বুধবার খাদ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী নাসরিনের মাধ্যমে নিজ তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান সুমনার পরিবারের হাতে তুলে দেন। শুধু সাময়িক অনুদান দিয়েই ক্ষান্ত হননি মন্ত্রী, পরিবারটির বসবাসের জন্য জরাজীর্ণ ঘরটি দ্রুত সরকারি বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে মেরামত করে দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
