ভাঙা সড়কে নতুন প্রার্থীদের ছোঁয়া, নীরব সাবেকরা

নবাবগঞ্জে নির্বাচনী হাওয়া

ভাঙা সড়কে নতুন প্রার্থীদের ছোঁয়া, নীরব সাবেকরা

ফন্ট সাইজ:

নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তিগত অর্থায়নে রাস্তা সংস্কারে নেমেছেন চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে থাকা বিভিন্ন সড়কে হঠাৎ করে সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে যেমন স্বস্তি এসেছে, প্রশংসায় ভাসছেন প্রার্থীরা। উপজেলার বারুয়াখালী, নয়নশ্রী, চূড়াইনসহ কয়েকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা সড়কে ইট, খোয়া ও বালু ফেলে সংস্কার করা হচ্ছে। কোথাও রাস্তার গর্ত ভরাট করা হচ্ছে, আবার কোথাও মাটি ফেলে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা চলছে। এসব কাজের ব্যয় বহন করছেন চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ। বারুয়াখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোক্তার হোসেন খান মজনু ও তুষার খান বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড ভেসে বেড়াচ্ছে যোগাযোগমাধ্যমে।

এছাড়া পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন নয়নশ্রীতে মোয়াজ্জেম হোসেন ঈসাকে বিভিন্ন রাস্তা সংস্কার করতে দেখা যায়। একই দৃশ্য দেখা যায় চূড়াইন ইউনিয়নের মেম্বার প্রার্থী সাইফুল সুজনকে। স্থানীয়দের মতে, নতুন সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকে নিজেদের অর্থ খরচ করে রাস্তা সংস্কার করে ভোটারদের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ এটিকে জনসেবামূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও অন্যদের ধারণা, নির্বাচনের আগে দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভোটারদের মন জয় করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে সাবেক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের ভূমিকা নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন প্রার্থীরা যখন নিজ অর্থায়নে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে মাঠে নেমেছেন, তখন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ও সাবেক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের অনেকেই নীরব রয়েছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ বলছেন, ভোটের হিসাব-নিকাশ নয়, মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেই তারা এসব কাজ করছেন। সরকারি বরাদ্দ বা প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে জরুরিভিত্তিতে সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করছেন তারা। সব মিলিয়ে নবাবগঞ্জে নির্বাচনী মাঠে নতুন সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা যেমন আলোচনায় এসেছে, তেমনি সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নীরবতাও জন্ম দিয়েছে প্রশ্নের।