বন্ধ হয়নি সিসা গলানো কর্মযজ্ঞ

ফন্ট সাইজ:

থেমে নেই খুলনা বিসিক শিল্প নগরীর হ্যামকো গ্রুপের বিষাক্ত সিসা গলানোর কাজ। এতে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ বিপর্যয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবার জীবন ও পরিবেশ বাঁচাতে রাজপথের কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী। সরজমিন জানা যায়, খুলনার ফুলতলার শিরোমণি বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত হ্যামকো গ্রুপের সিসা গলানোর কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া ও এসিড মিশ্রিত উৎকট গন্ধে অতিষ্ঠ আটরা গিলাতলা ইউনিয়নের বাসিন্দারা। পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলেও কারখানা কর্তৃপক্ষের তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে। এখনো সিসা গলানো কর্মযজ্ঞ থেমে নেই। কারখানার উত্তর পাশে রয়েছে জাহানাবাদ সেনানিবাস, ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গিলাতলা আলিয়া মাদ্রাসা, হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও সিআইডি অফিস, দক্ষিণে খুলনা জেলা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), খানজাহান আলী আদর্শ মহাবিদ্যালয়, ঐতিহ্যবাহী শিরোমণি বাজার, খান জাহান আলী থানা কেএমপি। পূর্বে রয়েছে বৃহৎ কেডিএ আবাসিক এলাকা এবং পশ্চিমে বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ এখন শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন। শিক্ষার্থী ও বয়োবৃদ্ধরা রয়েছেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

ক্ষুব্ধ অধিবাসীরা জানান, সংবাদ প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় হ্যামকো গ্রুপ বেপরোয়াভাবে তাদের সিসা গলানো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে এই বিষাক্ত সিসা কারখানা বন্ধ বা বিসিক থেকে স্থানান্তরিত না করা হলে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিবে সাধারণ জনগণ। জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), খুলনা জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু ও কঠোর হস্তক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।