জাতীয় সংসদে দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। গ্যাস-বিদ্যুতের চরম সংকট তুলে ধরে তিনি সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক অদক্ষতার কড়া সমালোচনা করেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর সভাপতিত্বে সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে রুমিন ফারহানা এ কথা বলেন।
সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে জ্বালানি খাতের বেহাল দশা তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, “মাননীয় স্পিকার, জ্বালানি নিয়ে আর কী বলবো! গ্যাস আর বিদ্যুতের ব্যাপারে দুষ্ট লোকেরা বলে-অবশ্য ভালো লোকেরা বলে না-তারা বলে ‘টুকু আসে টুকু যায়’।”
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নাম উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ কখন আসে আর কখন যায়, কতক্ষণ থাকে তা নাকি দেশের সাধারণ মানুষ বুঝে উঠতেই পারে না। একদিকে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, অন্যদিকে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের হাহাকার চলছে, যা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
দেশের মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য জানান, বর্তমানে মানুষ মূল্যস্ফীতির কারণে চরম অস্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের প্রাথমিক অগ্রগতি ও প্রতিশ্রুতি ছিল আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের নিশ্চয়তা বিধান করা। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে কথা বলতে গেলে দেখা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যঙ্গ অথবা বাকচাতুরতা দিয়ে আসল বিষয়টি ঘুরিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে রুমিন ফারহানা কটাক্ষ করে বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে জানা যায় দেশের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেমন একাধিক রয়েছেন, ঠিক তেমনি দেশের ৬৪টি জেলায় ৬৪ জন আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলেও মন্দ হতো না, কারণ বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই ‘ভালো’ অবস্থায় গিয়ে ঠেকেছে।
কর্মসংস্থান ও শিল্প খাতের চরম মন্দা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সরকার ক্ষমতায় আসার সময় এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিশাল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যেই ৬২ হাজারের বেশি মানুষ তাদের চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯০০টিরও বেশি কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন কর্মসংস্থান তো দূরের কথা, যাদের বর্তমানে চাকরি আছে তাদের চাকরি আর কতদিন টিকে থাকে তা একমাত্র আল্লাহ মাবুদই জানেন।
বাজারের বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, বাজারে মানুষ পণ্য কিনতে গেলে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি খুঁজে পাওয়া যায় না। ডিম ও মিনিকেট চালের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ যে কতটা কষ্টে আছে, তা টিসিবির পণ্য কেনার পেছনে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়।
