ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে শিশুদের ক্ষতি করার অভিযোগ সংক্রান্ত একটি বড় আইনি লড়াই চলছে মেটার বিরুদ্ধে। এ লড়াইয়ে ১৮ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের সমঝোতায় পৌঁছাতে রাজি হয়েছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্যের দায়ের করা এই মামলায় মেটার বিরুদ্ধে মূলত শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা রক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়। আইনি লড়াইটি ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য সংগ্রহ নিয়ে হলেও, মূলত প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন সুরক্ষায় ব্যর্থতার বিষয়টিই ছিল এর প্রধান লক্ষ্য। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
মাত্র পাঁচ দিন ধরে চলা এই বিচারে মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের সাক্ষ্য দেয়ার আগেই এই সমঝোতা সম্পন্ন হয়। মামলাটিতে হেরে গেলে মেটাকে সর্বোচ্চ ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারত, যা কোম্পানিটির মোট বাজারমূল্যের প্রায় সমান। তবে আগামী ১০ বছরে ১৮ বিলিয়ন ডলার দেয়ার এই চুক্তির মাধ্যমে মেটা বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেল। যদিও এই সমঝোতার মাধ্যমে তারা নিজেদের কোনো আইনি অপরাধ স্বীকার করেনি। বিচার চলাকালে ইনস্টাগ্রামের সাবেক কর্মী ও হুইসেলব্লোয়ার আরটুরো বেজার সাক্ষ্য দেন, প্ল্যাটফর্মটিতে শিশুদের ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি।
এই চুক্তির অংশ হিসেবে শিশুদের সুরক্ষায় ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে মেটা। নতুন নিয়মে কিশোর বয়সীদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা ব্যবহারের সময়সীমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করা হবে। তবে ডিরেক্ট মেসেজ বা ডিএম এর আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা এবং স্কুল চলাকালীন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সব ধরনের নোটিফিকেশন বন্ধ (মিউট) থাকবে।
পাশাপাশি কিশোর ব্যবহারকারীদের পোস্ট ও কনটেন্টে ‘লাইক’ অপশনটি সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসব ফিচারের বেশিরভাগই কার্যকর হবে। তবে শিশুদের বয়স সঠিকভাবে শনাক্ত করার নতুন প্রযুক্তি পুরোপুরি চালু করতে অন্তত এক বছর সময় লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে এসব নিয়ম খুব শিগগিরই বিশ্বের অন্যান্য দেশেও কার্যকর হতে পারে। মেটা জানিয়েছে, তাদের এই পদক্ষেপগুলো তখনই পুরোপুরি সফল হবে, যখন টিকটক বা স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্মগুলোও একই নিয়ম অনুসরণ করবে। শিশুদের সুরক্ষায় মেটার এই বিশাল অঙ্কের জরিমানা ও নতুন বিধিনিষেধ গোটা সোশ্যাল মিডিয়া শিল্পে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
