শেখ হাসিনাসহ বিদেশে থাকা সব অভিযুক্তকে ফেরত চায় সরকার

শেখ হাসিনাসহ বিদেশে থাকা সব অভিযুক্তকে ফেরত চায় সরকার

ফন্ট সাইজ:

বিদেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ সকল আসামির বিচারের স্বার্থে দেশে ফেরত চায় সরকার বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, শুধু শেখ হাসিনা নন, বাংলাদেশের যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং যারা বিদেশে অবস্থান করছেন, আমরা তাদের সবাইকে দেশে ফেরত চাই। গতকাল সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে তথ্যমন্ত্রী সরকারের ৬ মাসের বিশেষ অর্জন বিষয়ে তথ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান: গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ৬ মাস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে আছেন এটা আমরা জানি। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত ও অনুরোধ ভারতের কাছে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ভারতীয় পক্ষ আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবেচনা করতে পারে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয়, রাজনৈতিকভাবে সরাসরি সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিষয়টি যদি আদালতের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে সেটি তার জন্য খুব একটা সুখবর হবে না।

বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানিয়ে তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইন্টেলেকচুয়াল চিন্তা-চেতনায় যদি কেউ ফ্যাসিজমকে সাপোর্ট বা প্রমোট করে, সেই জিনিসটাকে সামাজিকভাবে ধিক্কার জানানো ছাড়া আমাদের অন্য কিছু করার থাকে না। যারা মুক্ত বাংলাদেশ এবং নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনায় বিশ্বাস করে না, সামাজিকভাবে বয়কট হওয়াই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিচার। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আন্দালিব রহমান বলেন, গণতন্ত্র বিশ্বাস করাটা একটি মানসিকতার বিষয়। গত ১৭ বছর যে মানসিকতা আমরা দেখেছি, তা ছিল সমালোচনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া। কিন্তু বর্তমান সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর দিক থেকে মিডিয়ার স্বাধীনতা বন্ধ করে দেয়া বা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো মানসিকতা নেই। বিগত শাসনামলের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের সব সিস্টেম দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল। এমন একটি ভঙ্গুর অবস্থার পর দায়িত্ব নিয়ে সরকার দেশের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা আপনাদের কাছ থেকে বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা আশা করি, যাতে আমরা ভুলত্রুটি শুধরে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে পারি।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট আয়োজনে কোনো বাধা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করা হবে-এমন মানসিকতা সরকারের নেই। তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো কনসার্ট বাতিল হওয়া মানেই সরকার সহযোগিতা করেনি এমনটি নয়। নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারণে অনুষ্ঠান বাতিল হতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক কনসার্ট হচ্ছে এবং বড় বড় আয়োজনও হচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকলে সেটি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়। মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের সরকারের তরফ থেকে এ ধরনের কোনো মানসিকতা নেই যে, কোনো সাংস্কৃতিক বিষয়ে কোনো বাধা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করা হবে। সংবাদপত্রের ভুয়া প্রচারসংখ্যা বন্ধের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, কম পত্রিকা ছাপিয়ে লক্ষাধিক সার্কুলেশন দেখানোর অসত্য প্রক্রিয়া বন্ধে তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রণালয় জোরালোভাবে কাজ শুরু করেছে।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সমপ্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে বলেন, অতীতেও বলেছি, সরকারের বিরুদ্ধে বলার স্বাধীনতা সকলেরই আছে। সরকারের বিরুদ্ধে হোক কিংবা পক্ষে জনগণের কথা তুলে ধরাই গণতন্ত্র। বিটিভি ও সরকারি মাধ্যমে এখন থেকে আনুপাতিক হারে বিরোধী দলগুলোর খবরও প্রচার করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, সাংবাদিকদের কল্যাণে ট্রাস্ট ফান্ডের অনুদান দ্বিগুণ করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। অসুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের জন্য ইতিমধ্যে এক কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সমপ্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।