দেশে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সমপ্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, কোনো কোনো জায়গায় সার বিতরণে কিছু অনিয়ম হয়তো পত্রিকায় এসেছে। আমরা খেয়াল করেছি এবং সেটার জন্য সরকার খুব দ্রুত ব্যবস্থাও নিচ্ছে। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বদলি করা হয়েছে এবং নতুন
মানুষ দেয়া হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে। অতিরিক্ত সার রক্ষিত আছে।
সরকার বিতরণ ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, নতুন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে সমস্যা হচ্ছে। কোনো কোনো ডিলার তার বরাদ্দের পরিমাণ সার উত্তোলন করছেন না। এ ধরনের কিছু ঘটনার কারণে কোনো কোনো জায়গায় কিছু সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তবে আমরা আশা করি, খুব বেশিদিন এভাবে চলবে না। সারের মজুতের তথ্য জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সোমবার পর্যন্ত দেশে ইউরিয়ার মজুত ৪ লাখ ৮২ হাজার টন, টিএসপি ৩ লাখ ৬৯ হাজার টন, ডিএপি ৩ লাখ ৬৮ হাজার টন এবং এমওপি এক লাখ ৪৬ হাজার টন। সব মিলিয়ে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার টন মজুত ছিল। উপদেষ্টা জানান, আমদানি পর্যায়ে টিএসপি আছে ২ লাখ ১০ হাজার টন, ডিএপি ২ লাখ ৮০ হাজার টন, এমওপি ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন। আরও অনুমোদন হয়েছে টিএসপি ৬০ হাজার টন, ডিএপি ১ লাখ ২০ হাজার টন, এমওপি ১ লাখ ১৫ হাজার টন।
গ্যাস সংকট নিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এখনো গ্যাসের সরবরাহ পূর্ণমাত্রায় প্রতিস্থাপিত হয়নি। আমাদের এফএসআরইউ যেটা নষ্ট হয়েছিল, আগুন ধরেছিল, সেটা ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে গ্যাসের কার্গো সাপ্লাই আসতে একটু সমস্যা হচ্ছে। সেটা এলে ঠিক হয়ে যাবে। তিনি বলেন, শিল্প উদ্যোক্তাদের কারখানা টিকিয়ে রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল এককালীন না দিয়ে ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে। উপদেষ্টা বলেন, শিল্পকারখানার জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস বাঁচাতে এবং গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন সর্বোচ্চে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
ভোলার নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে দ্রুত গ্যাস যুক্ত করতে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে জরুরি পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। এটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি জানান, বিদেশি আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশীয় উৎস থেকে ১ হাজার ৭৫০ এমএসডিএফ গ্যাস উৎপন্ন করার লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও পুনঃখননের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্থলভাগের গ্যাস অনুসন্ধান বন্ধ রেখে কিছু অলিগার্কের হাতে আমদানি তুলে দেয়া হয়েছিল উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা জনগণের সংকটের প্রতি সমব্যথী। কিন্তু আমরা একইসঙ্গে এই কথাটা বলতে চাই, এই সংকটটা বহু বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যা। অন্তর্বর্তী সরকারকে সৌভাগ্যবান আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সৌভাগ্য তাদের, তখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়নি। প্রতি ইউনিট এলএনজি’র দাম গত বছরের এই সময়ে ছিল ১২ থেকে ১৪ ডলার। এই মুহূর্তে ২৪ ডলার। এটা ৩০ ডলার বা আরও বেশি হবে- এ রকম সম্ভাবনা আছে। সুতরাং আমরা বলে ফেলি যে, ওই সময় (সংকট) হয়নি কেন? এখন হচ্ছে কেন? উপদেষ্টা বলেন, যথেষ্ট ভালো একটা অবস্থায় যেতে আমাদের দুই বছরের মতো সময় লাগবে। তার মানে এই না, বাকি সময়গুলো আমরা আগের চেয়ে খারাপ থাকবো। আমরা আগের চেয়ে খারাপ থাকবো না।
চীন থেকে জে-১০সিই কিনতে পারে বাংলাদেশ
জাহেদ উর রহমান বলেন, বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মডেলের চতুর্থ জন্মের এমআরসিএ (মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট), ফাইটার এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই অর্থবছরে বাজেট সাহায্য পাওয়া গেলে সেটা করা হবে, কিংবা পরের বাজেটে চলে যাবে। তিনি জানান, এমআরসিএ জে-১০সিই এবং হেলিকপ্টারের একটি কমিটির মাধ্যমে সমঝোতা বৈঠকের খসড়া চুক্তিপত্র হয়েছে।
সমপ্রতি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে ভারতের দাসো রাফাল ডাউন হয়েছিল এবং সেটা করেছিল চাইনিজ জে-১০সিই। এই তথ্য এখন প্রতিষ্ঠিত। চীনের তৈরি একটা মাল্টিরোল ফাইটারকে বলা হয় ৪ দশমিক ৫ প্রজন্মের সবচেয়ে আধুনিক ফাইটারগুলোর একটা। কমব্যাট সিচুয়েশনে খুবই ভালো করেছে। যে কারণে বাংলাদেশ সেদিকে মনোযোগ দিয়েছে এবং আশা করা যায়, আমরা এই পথে খুব ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছি- যোগ করেন তিনি। জাহেদ আরও বলেন, একই মানের রাফাল বা ইউরো ফাইটার টাইফুন, ইউরোপিয়ান ফাইটারগুলোর তুলনায় চাইনিজ ফাইটারগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তবে মুখোমুখি কমব্যাট সিচুয়েশনে ভালো করেছে। সরকার জনগণের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সব রকম কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ৫ই আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ যে অবস্থায় চলে গিয়েছিল, সেখান থেকে বর্তমান সরকারের সময়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য, বরং নাটকীয় অগ্রগতি হয়েছে। তিনি জানান, রাতারাতি সবকিছুর পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে যতটুকু উন্নতি হয়েছে, সেটিকে অনেক বড় উন্নতি হিসেবে দেখছেন তিনি। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের চর্চা বাড়ানো এবং তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
