সিলেটের কারাগার হচ্ছে পার্ক, হাসান মার্কেট অত্যাধুনিক

সিলেটের কারাগার হচ্ছে পার্ক, হাসান মার্কেট অত্যাধুনিক

ফন্ট সাইজ:

সিলেটের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারকে করা হচ্ছে পার্ক। এই জায়গাকে সিলেট নগরের ফুসফুস হিসেবে তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট-১ আসনের এমপি ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি গতকাল সিলেটের একটি অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়েছেন। বিগত সরকারের সময় শহরতলীর বাদাঘাটে নতুন কারাগার নির্মাণ করে সেখানে বন্দি স্থানান্তর করা হয়। তখনকার সরকার পুরাতন কারাগারের স্থানে পার্ক নির্মাণের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি হয়নি। পরবর্তীতে এই জায়গাটিকে পুনরায় কারাগার হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হয়।

বর্তমানে এ কারাগারে সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকার আসামিদের রাখা হয়। আর নতুন কারাগারে রাখা হয় জেলার ১৩ উপজেলার আসামিদের। নগরের ঠিক মধ্যখানে পুরাতন কারাগার অবস্থিত। সিটি মেয়র থাকাকালে বর্তমান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী কারাগারের ঠিক পাশের ধোপাদিঘীর চতুর্দিকে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করে দেন। এখন বিকাল হলেই নগরের মানুষজন ওই এলাকায় ভিড় করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী গতকাল নতুন করে দিলেন এই সুখবর। নগরের মানুষের হাঁটা-চলার ব্যবস্থা করতে এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। আর বিষয়টির দৃশ্যমান উদ্যোগ সহসাই দেখা যাবে বলে জানান তিনি। এদিকে প্রাণকেন্দ্র বন্দরবাজারে ঐতিহ্যবাহী হাসান মার্কেটের স্থলে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি সুপার মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে থাকবে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংসহ আধুনিক বিভিন্ন সুবিধা। একই সঙ্গে বর্তমান ব্যবসায়ীরা যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

সোমবার সন্ধ্যায় তিনি হাসান মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন। সিসিক প্রশাসক জানান- ‘হাসান মার্কেট সিলেট নগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাণকেন্দ্রীয় এলাকায় অবস্থিত। ঐতিহ্যবাহী এই মার্কেটের স্থলে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী একটি অত্যাধুনিক সুপার মার্কেট নির্মাণ করা প্রয়োজন। জায়গাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় নতুন মার্কেট নির্মাণের ক্ষেত্রে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হবে। সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব মার্কেট নির্মাণের পথে এগিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি জানান- প্রস্তাবিত মার্কেটে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংসহ বিভিন্ন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে। পাশাপাশি বর্তমানে যারা হাসান মার্কেটে ব্যবসা করছেন, তারা যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকেও সিটি করপোরেশন গুরুত্ব দেবে। সিলেটের হাসান মার্কেট হচ্ছে পুরনো একটি মার্কেট। নগরের ঐতিহ্যও। পুরাতন হাসান মার্কেটকে ভেঙে নতুন করে গড়ে তুলতে অনেক আগেই উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন জনপ্রতিনিধিরা। তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের সময় হাসান মার্কেটে নতুন বহুতল ভবন মার্কেট করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। ওই সময় নিচ তলায় থাকা ব্যবসায়ীদের পজিশন ঠিক রেখে উপর থেকে দোকান কোটা বরাদ্দের উদ্যোগ নেয়া হয়। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন-সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ওই সময় অনেক ব্যবসায়ীর কাছে পজিশন বিক্রিও করা হয়েছিল। এসব পজিশন বিক্রি করা হলেও এখনো মার্কেট না ভাঙায় তারা পাননি। এরপর সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সময় এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। পরে সেটি ভেস্তে যায়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার হাসান মার্কেট, সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন মিউনিসিপ্যালিটি মার্কেট সহ গোটা এলাকা নিয়ে একটি আধুনিক মার্কেট ও কমপ্লেক্স করার চিন্তাভাবনা করেছিল। সাবেক মন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন ওই স্থানে বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণের কথা জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক হলেও সেটি শেষ পর্যন্ত আশার আলো দেখেনি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন-আন্ডারগ্রাউন্ড করে আধুনিক পদ্ধতিতে মার্কেট নির্মাণ করলে শহরের সৌন্দর্য বাড়ার পাশাপাশি ওই এলাকার পরিবেশ অত্যাধুনিক হবে। তবে পরিকল্পনা নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ সমাপ্ত করলে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কম হবে বলে জানান তারা।