গুমের অভিযোগ তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিবেচনা করা হবে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ভুক্তভোগী যে দলেরই অনুসারী হোন না কেন, অপরাধের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতেই তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি এবং গুমের শিকার প্রায় ৬০টি পরিবারের সদস্য ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
সানজিদা ইসলাম তুলি অভিযোগ করেন, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সময়ে ‘মায়ের ডাক’-এর দেয়া গুমের অভিযোগগুলো রাজনৈতিক বিবেচনায় তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমান চিফ প্রসিকিউটরের সময়ে যেন এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে তিনি অনুরোধ জানান। জবাবে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের দলীয় পরিচয় দিয়ে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। জামায়াত, বিএনপি, আওয়ামী লীগ কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তি গুমের শিকার হয়ে থাকলে, একই মানদণ্ডে তার অভিযোগ তদন্ত করা হবে। তিনি বলেন, আমি দেখতে চাই, যারাই গুমের শিকার হয়েছেন, তারা গুম পরিবারের সদস্য। আমরা দলীয়ভাবে এভাবে দেখতে চাই না।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, গুমের অভিযোগ তদন্তে ইতিমধ্যে ৫ জন বিশেষজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি বিশেষ টিম কাজ করছে। গুম সংক্রান্ত তদন্তে অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের এ দলে রাখা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রমে প্রসিকিউশনও সরাসরি সমন্বয় ও নজরদারি করছে। মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি পরিবারকে নিয়ে তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এসব পরিবারের সদস্যরা গুমের শিকার হয়েছেন এবং এখনো ফিরে আসেননি প্রাথমিক তদন্তে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে তাদের অপহরণের বিষয়টিও তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানান তিনি। বলেন, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব স্থান থেকে ভুক্তভোগীদের অপহরণ করা হয়েছিল, সেসব ঘটনাস্থলও চিহ্নিত করে তদন্ত করা হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক ভুক্তভোগীর কারণে প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে যাচাই করতে সময় লাগছে বলেও জানান তিনি।
চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, এখনো যেসব গুমের ভুক্তভোগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি, সেগুলোকে চলমান অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্তে এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের মধ্যে এনে বিচারের প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, গুমের সঙ্গে জড়িতরা পরিকল্পিতভাবে অনেক আলামত নষ্ট করে ফেললেও কিছু প্রমাণ রেখে গেছে। সেই প্রমাণ ও বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।
