দখলীকৃত পশ্চিমতীরে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ’র ভোকেশনার কেন্দ্রে তল্লাশি বৃদ্ধি করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। অন্যদিকে রামাল্লাহতে কয়েকটি স্থানে আগুন নিভাতে যাওয়া অগ্নিনির্বাপণকারীদের বাধা দিয়েছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। গাজার খান ইউনিসে ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে একজন। জাতিসংঘের স্থাপনায় তল্লাশির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা। এ খবর দিয়ে অনলাইন আল জাজিরা বলছে, পশ্চিম তীরের কালানদিয়া ও কাফর আকাব এলাকায় জাতিসংঘের ভোকেশনার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তল্লাশি করেছে ইসরাইলি সেনারা। এসব কেন্দ্রে প্রায় ১৬ হাজার ফিলিস্তিনি শরণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছিল। রামাল্লাহ থেকে সাংবাদিক সারা আবু আলরোব এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন ইসরাইলি সরকার এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ভেঙ্গে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিল। এসব কেন্দ্রে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদেরকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিভিন্ন সামাজিক সেবাখাতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। দু’এক মাস আগে পূর্ব জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএ’র প্রধান কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তাদেরকে এসব কেন্দ্র ফাঁকা করে দিতে বাধ্য করে এবং ভবনের কিছু অংশ ভেঙ্গে ফেলতে বাধ্য করে। সাংবাদিক আবু আলরোব বলেন, আগামী অক্টোবরে ইসরাইলে নির্বাচন। এ উপলক্ষে এমন তল্লাশি চালানো হয়ে থাকতে পারে।
মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী ইসরাইলের এসব কর্মকাণ্ডকে ভয়ানক হিসেবে অভিহিত করেছেন। মঙ্গলবার কালানদিয়া শরণার্থী শিবিরে জাতিসংঘের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অভিযান চালানোর সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উগ্রপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির। এ ঘটনাকে ইসরাইলের অব্যাহত ধারাবাহিক ও আগ্রাসন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাস। টেলিগ্রামে দেয়া এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ইসরাইলের এ কর্মকাণ্ডকে জাতিসংঘ প্রস্তাব ও আন্তর্জাতিক কনভেনশনগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ।
ওদিকে বার্তা সংস্থা ওয়াফা বলছে, রামাল্লাহর উত্তর-পূর্বদিকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডের কাছে পৌঁছাতে অগ্নিনির্বাপকদের বাধা দিয়েছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। রিপোর্টে বলা হয়েছে, যেখানে আগুন লেগেছে সেই এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা উপস্থিত ছিল। ফলে আগুন তারাই দিয়েছে কিনা তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
