লন্ডন ডার্বিতে গোল আর উত্তেজনায় ভরপুর এক ম্যাচে ফুলহ্যামকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে শুভ সূচনা করলো চেলসি। ক্রেভেন কটেজে এই ম্যাচ দিয়েই ব্লুদের ডাগআউটে নতুন কোচ হিসেবে অভিষেক হলো স্প্যানিশ জাবি আলোনসোর। অন্যদিকে, ফুলহ্যামের হয়ে এই ম্যাচ দিয়ে প্রিমিয়ার লীগে কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেন আরেক সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা আলভারো আরবেলায়া। আক্রমণাত্মক ফুটবলের এই লড়াইয়ে দুই কোচের কৌশল এবং খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দর্শকদের দারুণ এক রোমাঞ্চ উপহার দিয়েছে।
ম্যাচ শেষে নিজের দলের আক্রমণভাগের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন চেলসি বস আলোনসো। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা দারুণ হুমকি সৃষ্টি করতে পেরেছিলাম। সামনের তিনজন স্ট্রাইকার চমৎকারভাবে বোঝাপড়া করে সুযোগ তৈরি করেছে। আমাদের দল ভারসাম্যপূর্ণ। বিশেষ খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট স্বাধীনতা দিতে হবে, তবে একই সঙ্গে দলের জন্য তাদের দায়িত্বও নিতে হবে।’ তবে শিষ্যদের প্রতি আস্থার অভাব নেই আলোনসোর। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি তাদের প্রতিভা কতটুকু। আমাদের খেলায় নিয়ন্ত্রণ, গুণগত মান এবং দৃঢ়তা বজায় রাখতে হবে।’
ম্যাচ শুরু হতেই গোলের দেখা পায় চেলসি। কিকঅফের মাত্র ৩১ সেকেন্ডের মধ্যে কোল পালমারের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ১-০ করেন জোয়াও পেদ্রো। তবে রবার্ট সানচেজের দুর্বল গোলকিপিংয়ের সুযোগ নিয়ে ফুলহ্যামকে সমতায় ফেরান জোশ কিং। এর কিছুক্ষণ পর চেলসির রেকর্ড সাইনিংয়ের মরগান রজার্স গোল করে দলকে এগিয়ে নেন।
বিরতির পর চার মিনিটের মাথায় পালমার দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করে ব্যবধান বাড়িয়ে ৩-১ করেন। এর পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে গঞ্জালো গার্সিয়া হেডার থেকে একটি গোল শোধ করেন। তবে শেষ পর্যন্ত সমতাসূচক গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিক ফুলহ্যাম। শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আলোনসোর চেলসি।
চোট ও ফর্মহীনতার কারণে ইংল্যান্ডের গত বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন পালমার। ম্যাচের পর নিজের মানসিকতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘গত মৌসুমটা চোট এবং নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে বেশ কঠিন গেছে। তবে গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর এবং দলে ফেরার পর থেকে আমি অতিরিক্ত পরিশ্রম করেছি। আমি জানি আমার প্রতিভা কতটুকু, তাই এমন পারফরম্যান্স উপহার দিতে পেরেছি। মানুষ হয়তো সমালোচনা করেছে, কিন্তু আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত ও ক্ষুধার্ত।’
অন্যদিকে, দারুণ লড়েও হার মানতে বাধ্য হওয়া ফুলহ্যাম বস আরবেলায়া তার দলের পারফরম্যান্সে গর্ব প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি মাঠে ঠিক সেই এনার্জি ও হাই-প্রেসিং দেখতে পেয়েছি, যা আমি দেখতে চেয়েছিলাম। প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, আমরা এভাবেই খেলার চেষ্টা চালিয়ে যাব। প্রথম মিনিট থেকে শেষ মিনিট পর্যন্ত আমাদের দল চরিত্র, উচ্চাশা ও লড়াইয়ের মানসিকতা দেখিয়েছে।’
বিশেষ করে ১৯ বছর বয়সী তরুণ ফরোয়ার্ড কিংয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন আরবেলায়া। তিনি উল্লেখ করেন, ‘কী দুর্দান্ত একজন খেলোয়াড়! তবে ফুটবলে শুধু প্রতিভা থাকলেই হয় না, তরুণদের ম্যাচের ফল আনতে হবে এবং গোল করতে হবে।’
