রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী-সন্তানসহ চারজনকে হত্যার ঘটনায় উঠে আসছে একের পর এক প্রশ্ন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ দুই মাদকসেবী যুবককে গ্রেপ্তার করলেও যদি কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। পুলিশের বক্তব্য নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। অবশেষে তদন্তভার গেল ডিবির কাঁধে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, এ হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনের মূল ঘটনাই হলো মাদকসেবনকে ঘিরে। স্থানীয় দুই যুবক সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে গিয়েছিল মাদক সেবনের উদ্দেশ্যে। সেখানে মাদক সেবন করতে দেখে ফেলায় গণপতি চক্রবর্তীকে তার কাঁধে থাকা গামছা গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। এরপর একে একে গণপতি’র স্ত্রী ও মেয়ে এবং ছেলেকে হত্যা করে তারা।
পুলিশ কমিশনার আরও জানান, অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ গণপতি’র বাড়ির ছাদে আসার পূর্বে তাদের বন্ধু সীমান্তের বাসায় গিয়েও ইয়াবা সেবন করেছিল।
এখানে সচেতন মহলের প্রশ্ন হলো, পরের বার ইয়াবা সেবনের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে কেন গণপতির বাড়ির ছাদেই আসতে হলো। এছাড়াও ওই দুই মাদকসেবী শিক্ষক গণপতির বাড়ির ছাদে আসার জন্য প্রতিবেশী দেবুর বাড়ির ছাদ ব্যবহার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেবুর বাড়ির ছাদ ছিল নির্জন, তাই সেখানেও তো তারা ইয়াবা সেবন করতে পারতো। এছাড়াও ইয়াবা সেবনের জন্য প্রয়োজন হয় বদ্ধ ঘর, সেখানে ছাদের অতিরিক্ত বাতাসে ইয়াবা সেবন কীভাবে সম্ভব—এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।
এছাড়াও যদি গণপতি মাদকসেবনের সময় ওই দুই যুবককে দেখেও ফেলে তাহলে তারা পালালো না কেন। এরপর গণপতিকে হত্যার পরে কেনই বা তার স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যা করতে হলো। গণপতিকে হত্যা করেও তো তারা পালিয়ে আসতে পারতো। কিন্তু সিদ্ধার্থ-মুগ্ধ গণপতিকে হত্যার পর না পালিয়ে গিয়ে একে একে আরও তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদকাসক্ত নিরাময় নিয়ে কাজ করা এক চিকিৎসক জানান, ইয়াবা সেবনের পর একজন মানুষ স্বাভাবিক থাকতে পারে না। এছাড়াও ইয়াবা সেবনের পর একজন মানুষের মধ্যে খুন করার মতো সাহস থাকে না। যদি একটি খুনও একজন মাদকসেবী ঘটনাক্রমে করেও থাকে, তবে তাৎক্ষণিক ওই মাদকসেবী সেই স্থান ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা
এদিকে, চক্রবর্তী পরিবারকে হত্যার ঘটনায় তদন্ত ভার রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা থেকে সরিয়ে ডিবি কমিশনার সনাতন চক্রবর্তীর কাঁধে দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে তার স্বজনরা সাড়াশব্দ না পাওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশে খবর দেয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বাড়ির তালা ভেঙে চিলেকোঠায় গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), সিঁড়িতে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫২) ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং দোতলায় শোবার ঘরে রংপুর জিলা স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) লাশ দেখতে পায় পুলিশ। এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রংপুরসহ দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় রোববার ভোরে পুলিশ মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে, সিটি বাজারে মাছের দোকান কর্মচারী মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয় চন্দ্র দাসের ছেলে, স্বর্ণের দোকানে কারিগর সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) গ্রেফতার করা হয়। তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই।
রংপুরে ৪ হত্যা
পুলিশের বক্তব্য নিয়ে নানা প্রশ্ন, তদন্তভার গেল ডিবির কাঁধে
জাভেদ ইকবাল, রংপুর থেকে
অনলাইন
৫৮ মিনিট আগে
২৫ আগস্ট (মঙ্গলবার), ২০২৬, ৪ঃ১৮ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
