ইরানের বিরুদ্ধে ‘এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান’ চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি দাবি করেছেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ এখন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ প্রবেশ করেছে।
বেসেন্ট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে। তিনি এটিকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে আর্থিকভাবে ব্যবসা বা লেনদেন করা যেকোনো দেশকেও আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারির পর ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান বলেছে, যুদ্ধ চলতে থাকলে তারা ওই অঞ্চল থেকে সব ধরনের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেবে।
এ ছাড়া জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রেও নতুন সতর্কতা জারি করেছে ইরান। দেশটির অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
ইরানের দক্ষিণে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর পর থেকেই ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে রেখেছে।
এর আগে বেসেন্ট বৃটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের কথা জানান। তবে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বেসেন্ট লিখেন, আমাদের লক্ষ্য হলো স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা প্রতিটি অর্থনৈতিক লাইফলাইন বিচ্ছিন্ন করা, যতক্ষণ না তেহরান সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়ে।
