ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামি চট্টগ্রামের অস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলালের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে মাজেদুলের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মিন্টু কুমার মন্ডল।
গত ১৮ই এপ্রিল ওসমান হাদি হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে মাজেদুল হক হেলাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এর আগে চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর গত ১৫ এপ্রিল মাজেদুলকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি নরসিংদী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নরসিংদী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়, উদ্ধার করা পিস্তল থেকেই ঘটনাস্থলে পাওয়া কার্তুজের গুলি ছোড়া হয়েছিল। তদন্তে আরও জানা যায়, মাইক্রো-অ্যানালাইসিস পরীক্ষার মাধ্যমে পিস্তলটির সিরিয়াল নম্বর উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ঢাকার এমআইএইচ আর্মস কোম্পানি ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর পিস্তলটি ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্সের কাছে বিক্রি করে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি পিস্তলটি চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়। তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোম্পানির মালিক মাজেদুল হক হেলাল। তবে প্রতিষ্ঠানটির অস্ত্র ব্যবসার লাইসেন্স ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর আর নবায়ন করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাকে গুলি করা হয়। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদি মারা গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। মামলাটি তদন্ত করে গত ৬ জানুয়ারি ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তবে মামলার বাদী ওই অভিযোগপত্রের বিষয়ে আদালতে নারাজি আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। বর্তমানে সিআইডি মামলাটির অধিকতর তদন্ত করছে।
