২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ খেলে দারুণ এক অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ। ডারউইনে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের দুর্দান্ত জয়ের পর ম্যাকাইয়ে স্বাগতিকদের কাছে হেরে যায় টাইগাররা। তবে নাজমুল হোসেন শান্তদের লড়াকু মানসিকতা মুগ্ধ করেছে ক্রিকেট বিশ্বকে। অস্ট্রেলিয়ার উইকেটকিপার-ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারি তো পরিষ্কার জানিয়েই দিলেন-ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিপক্ষে আরও বেশি টেস্ট সিরিজ খেলতে চান তারা।
অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত বোলিংয়ে দুই দিনের শেষ হয়ে যায় ম্যাকাই টেস্ট। তৃতীয় দিন সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের লড়াই নিয়ে নানা দিক তুলে ধরেন ক্যারি। গত কয়েক মাসে ওয়ানডে ও টেস্ট-সব ফরম্যাটেই বাংলাদেশের বিপক্ষে হওয়া জমজমাট লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘এটি একটি রোমাঞ্চকর সিরিজ ছিল। চমৎকার ক্রীড়াসুলভ মনোভাব নিয়ে খেলা হয়েছে। গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ওয়ানডে এবং টেস্ট ক্রিকেট মিলিয়ে দারুণ কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে।’
ভবিষ্যতে টাইগারদের বিপক্ষে খেলার আশাবাদ ব্যক্ত করে ক্যারি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, টেস্ট ক্রিকেটে আমরা বাংলাদেশকে আরও অনেকবার দেখতে পাব। আমরা তাদের বিপক্ষে আরও সিরিজ খেলতে চাই। ম্যাচের পর তাদের সঙ্গে দেখা করা, আড্ডা দেয়াটাও বেশ ভালো লাগার।’
অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের দারুণ ভুগিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। বিশেষ করে বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামের পারফরম্যান্স বেশ প্রশংসিত হয়েছে। ঢাকায় ওয়ানডে সিরিজের পর ম্যাকাই টেস্টেও অজি ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান শরিফুল। আলাদাভাবে তাকে নিয়ে ক্যারি বলেন, ‘ওয়ানডে সিরিজে আমরা তাকে (শরিফুল) দেখেছিলাম। সে ঢাকায় ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়েছিল। এখানে এসেও একই কাজটা করেছে। সে দারুণ বোলিং করেছে। বাংলাদেশের সব পেসারই এই সিরিজে অনেক ভালো বল করেছে। শরিফুল নিজের বোলিংয়ের পুরস্কারটা পেয়েছে প্রথম দিনেই।’
ডারউইনের প্রথম টেস্টে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর ম্যাকাইয়ে ঘুরে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে ক্যারি বলেন, ‘আসলে আমার পয়েন্ট অব ভিউ হচ্ছে, আমরা প্রথম টেস্টে সব দিকেই আউটপ্লেড হয়েছিলাম। এখানে বাউন্স ব্যাক করেছি এবং কাজটা ভালোভাবে শেষ করেছি। ২০০+ রান করেছি, আরও বেশি করতে পারতাম।’ দুই দিনে ম্যাচ শেষ হওয়া নিয়ে তার মন্তব্য, ‘ভিন্ন কিছু নয়। আমাদের কাজ পারফর্ম করে ম্যাচ জেতা। ২ দিন হোক ৩ বা ৪ দিন হোক, আমরা খুশি।’
অস্ট্রেলিয়ায় আগস্ট মাসে টেস্ট ম্যাচ আয়োজন নিয়ে ক্যারি জানান, ‘আগস্ট মাসে অস্ট্রেলিয়াতে টেস্ট ম্যাচ খেলা দারুণ। আগে হয়ত এমন সময়ে বিদেশে খেলা হত। এবার দেশে খেলেছি। দারুণ কিছু ভেন্যু, ডারউইন দারুণ স্টেডিয়াম ছিল। এখানের পিচও বেশ ভালো ছিল। আশা করি সামনে এখানে আরও সাদা বলের ম্যাচ হবে।’
অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশের মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষ হয়েছে ১-১ ড্রয়ে। ডারউইনের ইতিহাস গড়ার পর ম্যাকাইয়ে অজিদের বিপক্ষে লড়াই করে টাইগাররা প্রমাণ করেছে বিশ্ব ক্রিকেটে যেকোনো কন্ডিশনে তারা এখন সমীহ জাগানিয়া দল। ক্যারির এমন মন্তব্য দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেটে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার নিয়মিত মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করে তুললো।
