ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের নতুন মৌসুমে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। বোর্নমাউথের মাঠে প্রায় হারের মুখে থাকা সিটিজেনরা শেষ মুহূর্তের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। পেপ গার্দিওলার উত্তরসূরি হিসেবে সিটির ডাগআউটে প্রথম লীগ ম্যাচ খেলতে নামা এনজো মারেস্কার অভিষেকটা শেষ পর্যন্ত দারুণভাবেই হলো।
ম্যাচের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় আর্লিং ব্রুট হালান্দের নতুন ‘বাজ কাট’ হেয়ারস্টাইল নিয়ে। লম্বা চুল ছেঁটে নতুন লুকে নামেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। তবে বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত দলের জয় নিয়ে কোচ মারেস্কা স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘শুরুটা আমাদের জন্য একদমই সহজ ছিল না এবং আমরা পিছিয়ে পড়ে বেশ চাপে পড়ে যাই। তবে খেলোয়াড়রা হাল ছাড়েনি এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে। এই ধরনের মানসিকতাই আমাদের জয় এনে দিয়েছে। যদিও আমাদের খেলায় এখনও বেশ কিছু জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।’
ম্যাচের ২৬ মিনিটে বোরমাউথের মার্কাস ট্যাভারিয়ারের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক বোর্নমাউথ। এরপর সিটির মিডফিল্ডের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কেননা, দলে রদ্রি ও বার্নার্দো সিলভাদের অনুপস্থিতিতে ডিফেন্ডার মার্ক গেয়িকে কিছুটা ওপরে খেলাতে হয়। তবে ম্যাচের রং পাল্টে যায় একেবারে শেষ দিকে। ৮৪ মিনিটে কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে সমতা ফেরান সেই গেয়িই। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে রায়ান চেরকির নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে সিটির জয় নিশ্চিত করেন ইয়োস্কো গাভার্দিওল। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পরীক্ষার পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হলে হাঁপ ছেড়ে বাচে সিটিজেনরা।
শেষ মুহূর্তের গোলে ১ পয়েন্ট লিভারপুলের
নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের মাঠে দুর্দান্ত এক লড়াইয়ের পর শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি থেকে ২-২ গোলের ড্র নিয়ে ফিরেছে লিভারপুল। ম্যাচের ৯৯ মিনিটে ডমিনিক সোবোসলাই সফল স্পট কিক থেকে গোল করে দলের ১ পয়েন্ট নিশ্চিত করেন। এর আগে ম্যাচের পুরো সময়জুড়ে লিভারপুলকে বেশ চাপে রাখে স্বাগতিক নিউক্যাসেল।
ম্যাচ শেষে লিভারপুল কোচ অ্যান্ডোনি ইরাওলা বলেন, ‘আমরা হারের যোগ্য ছিলাম না। দল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছে এবং এই পয়েন্ট আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। এখনো অনেক কিছু উন্নতির বাকি আছে, বিশেষ করে রক্ষণভাগে। তবে আমি খেলোয়াড়দের মানসিকতা ও তাদের লড়াই করার তীব্র ইচ্ছা দেখে সন্তুষ্ট।’
নবাগত কোচ ইরাওলার অধীনে এটি লিভারপুলের জন্য একটি বড় পরীক্ষামূলক ম্যাচ ছিল। তবে সেন্ট জেমস পার্কে শত কোটি টাকার তারকা ফ্লোরিয়ান ভির্টজ এবং সাবেক নিউক্যাসেল ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার ইসাক নিজেদের ছায়া হয়ে ছিলেন। ইসাক বল পেলেই স্বাগতিক দর্শকদের দুয়োর মুখে পড়েন এবং প্রথমার্ধে একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন। ডিফেন্সের দুর্বলতা এবং কাউন্টার অ্যাটাকে গোল খাওয়ার পুরনো সমস্যা এই ম্যাচেও অলরেডদের ভোগায়।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা ভিক্টর মুনোজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং শেষ মুহূর্তে সোবোসলাইয়ের গোল রেডসদের রক্ষা করে। ১ পয়েন্টের নায়ক সোবোসলাই ম্যাচ শেষে বলেন ‘আমরা পুরো ৯০ মিনিট লড়াই করেছি এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই আমাদের কাম্য।’
