ভিয়েতনামে এমপির গাড়িচাপায় মৃত তরুণীর বিচার ধামাচাপার অভিযোগ

ক্ষোভে ফুঁসছে তরুণ সমাজ

ভিয়েতনামে এমপির গাড়িচাপায় মৃত তরুণীর বিচার ধামাচাপার অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে সাবেক এক প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা গাড়িচাপা দেন এক তরুণীকে। এতে ১৮ বছর বয়সী দো নগোক ফুয়ং থুইয়ের মৃত্যুর ঘটে। এ ঘটনায় নতুন করে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ মাস নীরব থাকার পর ব্যাপক সামাজিক অসন্তোষের মুখে সরকার স্বীকার করে, সাবেক সংসদ সদস্য গুয়েন সাই কুয়ং নিজেই বিলাসবহুল গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে দায়মুক্তি দেওয়ায় দেশটিতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিচার ধামাচাপার অভিযোগ উঠেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ৩০ মে। গুয়েন সাই কুয়ংয়ের বিএমডব্লিউ গাড়িটি হঠাৎ লেন পরিবর্তন করে উল্টো পথে এসে একটি মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা বাবা আহত হন এবং তার মেয়ে থুই গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ১০ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে মারা যান। দীর্ঘদিন ঘটনাটি ধামাচাপা থাকায় সম্প্রতি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও এক্সে লাখ লাখ পোস্টের মাধ্যমে ‘জেন-জি’ তরুণ প্রজন্ম বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে। তরুণরা দুর্ঘটনাস্থলের একটি গাছকে ‘জাস্টিস ট্রি’ বা ন্যায়ের প্রতীক বানিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ভিটিভিতে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, সাবেক সংসদ সদস্য কুয়ং অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। পরিবার মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করায় তাকে সব ধরনের ফৌজদারি দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দায়মুক্তির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ অব্যাহত রেখেছে। এই আন্দোলনের তীব্রতা নিয়ে স্থানীয় একদল সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী এবং সরকার ঘনিষ্ঠরা তীব্র সতর্কতা ও কটাক্ষ ছুড়ে দিচ্ছে।

তারা প্রশ্ন তুলেছে, এই তরুণরা কি এ ঘটনার মধ্য দিয়ে কোনো ‘কালার রেভল্যুশন’ বা তথাকথিত বিপ্লব ঘটাতে চাইছে? বাংলাদেশ, ভারত বা নেপালের সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের উদাহরণ টেনে এক বহুল আলোচিত পোস্টে লেখা হয়- ‘জেন-জি তরুণরা কি এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো অভ্যুত্থান করতে চাইছে? তারা কি বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালকে অনুকরণ করে এশিয়ান স্প্রিং তৈরি করতে চায়? মনে রেখো, এটা ভিয়েতনাম; এটা কোনো বাংলাদেশ, ভারত কিংবা নেপাল নয়!’ দেশটির জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ও তরুণদের সতর্ক করে একে ‘সরকারবিরোধী ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।