২০২৭ সালে ভিয়েতনামের অর্থনীতি ১১ শতাংশ বাড়তে পারে

২০২৭ সালে ভিয়েতনামের অর্থনীতি ১১ শতাংশ বাড়তে পারে

ফন্ট সাইজ:

ভিয়েতনামের অর্থনীতির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ইতিবাচক ও আশাবাদী মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। দেশটির অর্থনীতিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির গতি, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীল ভিত্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সম্ভাবনার বিষয়গুলো এসব প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভিয়েতনামের অর্থনীতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

এই প্রবৃদ্ধি আগের পূর্বাভাস ৭ শতাংশের চেয়ে বেশি। বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটির জিডিপি বেড়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। প্রথমার্ধে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হলো শিল্প ও নির্মাণ খাত। পাশাপাশি উৎপাদন খাতের পুনরুদ্ধার এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধিও অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান ডিএফডিএলের স্ট্যান্ড্রে বেজুইনহাউটের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় রদবদলকে বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগে পরিণত করার সক্ষমতা দেখিয়েছে ভিয়েতনাম। তার মতে, দেশটি উৎপাদন কার্যক্রম আকর্ষণ, বাণিজ্যিক একীভূতকরণ আরও গভীর করা এবং বিনিয়োগ প্রবাহের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করে চলেছে।

বাণিজ্য ও বিদেশি বিনিয়োগের পরিসংখ্যানেও এই প্রবৃদ্ধির গতি স্পষ্ট। এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ভিয়েতনামের রপ্তানি আয় ২৬৬ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ ৬১ শতাংশ বেড়ে ৩৪ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ব্যাংকটি পূর্বাভাস দিয়েছে- ভিয়েতনামের জিডিপি ২০২৬ সালে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ২০২৬ সালে ভিয়েতনামের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসও কমিয়ে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ করেছে। ব্যাংকটির মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখেই দেশটির প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করে যেতে পারে মুদ্রানীতি। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের জন্য স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ টিম লিলাহাফান বলেন, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ভিয়েতনামের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। উৎপাদন, সেবা ও বিনিয়োগ খাতের শক্তিশালী কার্যক্রম প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়েছে। অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে সহায়তা করার লক্ষ্যে সরকারের নেয়া বিভিন্ন নীতিও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকার মধ্যেও ভিয়েতনাম ২০২৬ সালের শেষ মাসগুলোতে শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে প্রবেশ করছে বলে মনে করেন লিলাহাফান। তার মতে, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, অবকাঠামোয় অব্যাহত বিনিয়োগ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চলমান অর্থনৈতিক রূপান্তর ভিয়েতনামের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে। এসব কারণ দেশটির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।