যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের নতুন মোড়, পাল্টাপাল্টি বাগযুদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের নতুন মোড়, পাল্টাপাল্টি বাগযুদ্ধ

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের নাটকীয় মোড় নিয়েছে। এখন অস্ত্রের যুদ্ধের বাইরে গিয়ে শুরু হচ্ছে বাণিজ্যিক যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নতুন কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে ইরানের অর্থনীতিতে নজিরবিহীন আক্রমণের হুমকি দিয়েছেন তিনি। তবে ইরানও পাল্টা জবাব দিয়েছে। তারা বলেছে, অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর থেকে সব তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেয়া হবে। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উপহাস করেছেন ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি এক্ষেত্রে ‘ইরান বুমেরাং’ সতর্কতা দিয়েছেন। ওদিকে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড দাবি করে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। নিজের ট্রুথ সোশ্যালে এই মানচিত্র আগের মতোই প্রকাশ করেছেন তিনি। হরমুজকে আখ্যায়িত করেছেন ‘নিউ ইউএস টেরিটোরি’ হিসেবে। এ বিষয়ে অবশ্য ইরানের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে তারা বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে আইন ভঙ্গ করে যদি কোনো নৌযান চলাচলের চেষ্টা করে তবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। জরিমানা, জব্দ অথবা কেড়ে নেয়া হতে পারে ওই নৌযান। ইরানিয়ান পারসিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি বলেছে, এরই মধ্যে কিছু নৌযান তেহরানের আইন ভঙ্গ করেছে। তারা ভবিষ্যতে এই পথে চলাচল করলে কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় পড়বে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এতে আরও বলা হয়, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ১টায় সংবাদ সম্মেলন করবেন। সেখানে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করা হতে পারে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে প্রায় নিরবচ্ছিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা ইরানের বিরুদ্ধে এবার আরও ব্যাপক চাপ প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। রোববার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে বেসেন্ট লিখেছেন, ভোরের সঙ্গে শুরু হচ্ছে অর্থনৈতিক ‘ডি-ডে’। এটা হবে কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত সংগঠিত সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান।

তবে সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি হামলা হয়নি। একই সঙ্গে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে অর্থবহ কোনো আলোচনাও হয়নি। ইরান এখনো পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধরে রেখেছে। এসব অস্ত্র দিয়ে দেশটি উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালাতে এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারকে হুমকি দিতে সক্ষম। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা অবশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়ে অভিযান চালালেও এর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্কট বেসেন্ট নতুন নিষেধাজ্ঞার সুনির্দিষ্ট বিবরণ না দিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের অর্থনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোকেও টার্গেট করা হতে পারে। জবাবে নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে কয়েক দিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। একই সঙ্গে দেশটির কর্মকর্তারা ধারাবাহিকভাবে কঠোর বক্তব্য দিয়ে বড় ধরনের পাল্টা পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। রোববার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি অর্থনৈতিক পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলতে থাকলে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হবে না হরমুজ প্রণালি দিয়েও নয়, পারস্য উপসাগরের অন্য কোনো স্থান দিয়েও নয়। তিনি আরও বলেন, ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে কোনো দেশের অংশগ্রহণ বা সহযোগিতাকে ইরান যুদ্ধের কাজ হিসেবে বিবেচনা করবে। এর আগে বেসেন্ট চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিকভাবে চীন তার আমদানি করা তেলের প্রায় অর্ধেক উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে। তবে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের একজন মুখপাত্র বলেন, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সমস্যার সমাধানে সহায়ক নয়। তিনি কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান।