গাজীপুরে মা-ছেলের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

ফন্ট সাইজ:

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অটোরিকশা ছিনতাই করতে চালক আতাউর রহমান ওরফে আতা মিয়া (৬০) কে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় ছিনতাই করা অটোরিকশা, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার রড, হাতুড়ি, রশি ও অটোরিকশা বিক্রির ২২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে ছেলের হত্যার খবর শুনে মানসিক আঘাতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান নিহত আতাউরের মা জহুরা খাতুন (৭৫)। একই পরিবারের মা ও ছেলের পরপর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পিবিআই জানায়, গত ২০শে আগস্ট বিকাল ৪টার দিকে কাপাসিয়া উপজেলার মির্জানগর এলাকার কৃষক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক আতাউর রহমান জীবিকার জন্য প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। ওইদিন রাত ৮টার আগে সনমানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও মির্জানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে একটি নির্জন কলাবাগানের সামনে তাকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা হত্যা করে অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরদিন ২১শে আগস্ট কাপাসিয়া থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে দস্যুতা ও হত্যা মামলা করা হয়। পরে মামলাটি পিবিআই গাজীপুর জেলা তদন্তের জন্য গ্রহণ করে।

পিবিআইয়ের দাবি, অ্যাডভান্সড আইসিটি, ডিজিটাল ফরেনসিক ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাপাসিয়ার চালার বাজার ও নরোত্তমপুর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলো কাপাসিয়ার ঘাগটিয়া চালার বাজার এলাকার রাজীব খান (২৯) এবং মির্জানগর এলাকার নকিবুল হাসান ওরফে রাকিব (২৪)। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হাতিরদিয়া বাসস্ট্যান্ডের আল-মদিনা এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই করা অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।

চোরাই মালামাল জেনেও অটোরিকশাটি কেনা ও হেফাজতে রাখার অভিযোগে দোকানের মালিক মো. কিবরিয়া (৪২)কে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআই গাজীপুর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, একজন অটোরিকশাচালককে হত্যা এবং তার পরপরই মায়ের মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।