চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ লাখ ৩৭ হাজার খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন, ইংরেজি-গণিতে বেশি

ফন্ট সাইজ:

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। এবার ৩৯ হাজার ৭৯৮ পরীক্ষার্থী মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬০১টি খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছে। এর মধ্যে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে আবেদনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
জানা গেছে, ইংরেজি বিষয়ে ২০ হাজার ৪০০টি এবং গণিতে ১৩ হাজার ৮২৮টি খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু এই দুই বিষয়েই আবেদন পড়েছে ৩৪ হাজারের বেশি। এরপর বাংলায় ৭ হাজার ৭৭১টি, পদার্থবিজ্ঞানে ৬ হাজার ৮২৩টি, জীববিজ্ঞানে ৪ হাজার ৫৫৯টি, রসায়নে ৪ হাজার ৫৩৫টি এবং উচ্চতর গণিতে ৪ হাজার ৪৪০টি আবেদন জমা হয়েছে। ফলাফল বিশ্লেষণেও ইংরেজি ও গণিতে অকৃতকার্যের হার বেশি দেখা গেছে।

ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র মিলিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৬৬ জন। তাদের মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছে ৩৫ হাজার ৮৭৬ জন। গণিতে পরীক্ষা দিয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৫ জন, যার মধ্যে ফেল করেছে ২৫ হাজার ৭৮৩ জন। দুই বিষয়ে মোট অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬১ হাজার ৬৫৯।
গত ১০ই আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ১১ থেকে ১৭ই আগস্ট পর্যন্ত পুনর্মূল্যায়নের আবেদন নেয়া হয়। এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা চালুর পর এটাই এ বোর্ডের সর্বনিম্ন পাসের হার। এবার বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয়া ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জনের মধ্যে পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। ফলে অকৃতকার্য হয়েছে ৫২ হাজার ৭৬৬ জন। এর মধ্যে এক বিষয়ে অকৃতকার্য ২৮ হাজার ৭৭১ জন। এবার পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়াতেও এসেছে পরিবর্তন।

এত দিন পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে মূলত উত্তরপত্রে কোনো প্রশ্নের নম্বর বাদ পড়েছে কি না, নম্বর ঠিকভাবে কভার পৃষ্ঠায় তোলা হয়েছে কি না কিংবা মোট নম্বরের যোগফলে ভুল হয়েছে কি নাÑ এসব যাচাই করা হতো। এবার এসবের পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও ভুল হয়েছে কি নাÑ তা দেখা হবে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, এবার উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ কাজের জন্য প্রায় ২৮৭ জন পরীক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ইংরেজি ও গণিতের আবেদনের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এসব বিষয়ে পরীক্ষকের সংখ্যাও বেশি রাখা হয়েছে। এবার ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরও পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে। তবে নৈর্ব্যক্তিক অংশের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে না।