প্রশ্ন পুরনো। ওমরাহ যাত্রীদের ইমিগ্রেশন পুলিশ কি আটকাতে পারে? আইনে অনেক ফারাক। ইমিগ্রেশন পুলিশ যে কাউকেই আটকাতে পারে। তাই বলে ওমরাহ যাত্রীকেও। এ নিয়ে প্রায়ই হেনস্তার অভিযোগ আসে। কোনো প্রতিকার মিলে না। এবার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমন ঘটনা ঘটেছে। যেটি নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে নেটদুনিয়া। সিলেটের বিয়ানীবাজারের অটোরিকশাচালক সুমন আহমদ ১৯শে আগস্ট ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে বিমান ধরতে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটকে দেয়। আর্থিক অনুসন্ধানের পর্যালোচনার পর পুলিশের কাছে বিশ্বাসযোগ্য না হওয়ায় তাকে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। আর বিষয়টি জানার পর সিলেটে তোলপাড় চলছে। হচ্ছে ট্রলও। সুমন আহমদ জানিয়েছেন, একজন আমেরিকান প্রবাসীর অর্থায়নে তিনি ওমরাহ করতে যাচ্ছিলেন। ফেরত দেয়ায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন।
বিষয়টি জানার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিলেট-৬ আসনের এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুক্রবার রাতে তার ক্ষোভের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার এলাকার এক যুবক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও সিলেট এয়ারপোর্ট থেকে ওমরাহ করতে যেতে পারেননি। সামর্থ্য না থাকা এবং সিএনজিচালক হওয়ার কারণে তাকে হুমকি দেয়া হয়েছে। ওমরাহ করা মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার। ঘটনাটি সত্যি হলে তা অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি অবিলম্বে তদন্ত করে জনসম্মুখে ব্যাখ্যা দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’ এ নিয়ে গতকাল বিকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের এসপি মো. মনির জানিয়েছেন, পুলিশের কাছে ওমরাহ যাত্রী হিসেবে সন্দেহ হয়েছে। আর্থিক বিষয়টি পর্যালোচনার পর সন্দেহ আরও দৃঢ় হলে তাকে যেতে দেয়া হয়নি। তবে তার পাসপোর্টে কোনো সিল দেয়া হয়নি। তিনি চাইলে পরবর্তীতে যেতে পারবেন।
ওমরাহ যাত্রীর সঙ্গে পুলিশ সেটি করতে পারে কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্প্রতি অনেকেই ওমরাহ গিয়ে ফেরত আসছে না। ভূমধ্যসাগর ট্র্যাজেডির ১২ জনের বেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে। অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে এটি করা হয়েছে। এদিকে, ওমরাহ যাত্রীদের সঙ্গে পুলিশ এমন আচরণ করতে পারে কি নাÑ এ প্রশ্ন পুরনো। অনেককেই নানাভাবে হেনস্তা করা হয়। হজ ও ওমরাহ এজেন্সির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ওমরাহ বিষয়টি অন্য কোনো যাত্রীদের চেয়ে ভিন্ন। কারণ ওমরাহ যাত্রী এজেন্সির প্যাকেজের মাধ্যমে যায়।
তারা হোটেল ও খাবারের টাকা পরিশোধ করে যায়। ট্রান্সপোর্টও বহন করে এজেন্সি। এজন্য তার আর্থিক বিষয়টি অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা করা উচিত নয়। সিলেটের যাত্রীক ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী ও হাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল জব্বার জলিল জানিয়েছেন, ওমরাহ যাত্রীর আর্থিক বিষয়টি ইমিগ্রেশন পুলিশ দেখতে পারে না। যদি ওমরাহ যাত্রী পালিয়ে যায় তাহলে দায়ভার এজেন্সির, পুলিশের নয়। এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল, জরিমানার বিধান রয়েছে। এজন্য পুলিশ ওমরাহ যাত্রীদের যাত্রা আটকাতে পারে না বলে জানান তিনি।
