নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ আল আমিন ওরফে বুলবুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি শেখ সিফাতসহ ৭ জনের ১০ দিন এবং চার নারী আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরী শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ। এর আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পুলিশ বুলবুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি শেখ সিফাতসহ ১১ আসামিকে আদালতে হাজির করে। এ সময় ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মী ও নিহত বুলবুলের স্বজনরা শেখ সিফাতের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন।
পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আদালতের এজলাসে নিয়ে যায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গ্রেপ্তার ১১ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত শেখ সিফাতসহ সাতজনকে ১০ দিন করে এবং চার নারী আসামিকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ১০ দিনের রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো- বন্দর উপজেলার শাহী মসজিদ এলাকার শেখ শাহিনের ছেলে ও মামলার প্রধান আসামি শেখ সিফাত (৩২), কদমরসুল এলাকার আলী আকবরের ছেলে জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মন (২৯), একই এলাকার সুলাইমানের ছেলে মো. সিয়াম (২৫), বারপাড়ার রবিউল হোসেনের ছেলে মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), শাহী মসজিদ এলাকার সোবাহানের ছেলে রিয়াদ (৩৩), চিতাশাল এলাকার ইমরান আলীর ছেলে ইরফান (২৯) এবং চৌধুরীবাড়ি এলাকার সোহেলের ছেলে সিজান ওরফে জিসান (২৬)। অন্যদিকে তিন দিনের রিমান্ডপ্রাপ্ত চার নারী হলো-সালেহনগর এলাকার পারভেজের স্ত্রী মিনারা (৩৫), একই এলাকার দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী রুমা (৩৬), মাসুদ মিয়ার স্ত্রী নাসিমা এবং শাহী মসজিদ এলাকার দ্বীন ইসলামের স্ত্রী ইয়াসমিন (৪০)।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর পশ্চিম শাখার যুগ্ম সম্পাদক জাহিদ আল আমিন ওরফে বুলবুল (৪০)। এ ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে বন্দরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধারালো অস্ত্রসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নিহতের বড় ভাই জুবায়ের আল আমিন বাদী হয়ে ৪০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
