সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কে সাড়ে ৪ হাজার গাছ কাটছে বনবিভাগ

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের ১৯ কিলোমিটার এলাকায় সড়ক প্রশস্তকরণের অজুহাত দেখিয়ে গত দুইদিন ধরে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার গাছ কাটা অব্যাহত রেখেছে বনবিভাগ। অথচ সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকা এই সড়কে প্রশস্তকরণের কোনো প্রকল্পই নেয়নি সড়ক বিভাগ। এ ঘটনায় বৃক্ষপ্রেমী, পরিবেশকর্মীসহ স্থানীয়রা ফুঁসে উঠছেন। গাছ কাটা বন্ধে শনিবার বিকালে হাওর ও নদীরক্ষা আন্দোলনের উদ্যোগে সড়কের পাশে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ২০০৪ সালে সামাজিক বনায়নের আওতায় এই সড়কের পাশে প্রায় ২০ হাজার গাছ লাগানো হয়েছিল। স্থানীয় উপকারভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এসব গাছ পরিচর্যা করে আসছেন। এর আগে ২০২৪ সালে বনবিভাগ সড়কের প্রায় তিন হাজার গাছ কাটার জন্য দরপত্র আহ্বান করেছিল। তবে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে তখন গাছগুলো কাটা হয়নি।

স্থানীয় মানিক মিয়া জানান, তার বাড়ির সামনে সরকারি জায়গায় তিনি একটি জামগাছ লাগিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে পথচারী ও স্থানীয় শিক্ষার্থীরা গাছটির ছায়া পেতেন। জাম মৌসুমে এলাকার মানুষ গাছটির জাম খেতেন। গাছটি কাটার সময় স্থানীয়রা বাধা দিলেও দু’টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। আবুল হোসেন বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই সড়কের পাশে শত শত গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। শুনেছি আকাশমণি, রেইনট্রিসহ বিদেশি প্রজাতির গাছ কাটার টেন্ডার হয়েছে। কিন্তু দেশীয় অনেক গাছও কেটে নেয়া হচ্ছে। গাছ কাটতে আসা লোকজন কারও বাধা-নিষেধ মানছেন না।

সংগঠনের সভাপতি রাজু আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক বলেন, সড়কের ছায়াবৃক্ষের মূল্য শুধু টাকার অঙ্কে নির্ধারণ করা যায় না। মানুষের জীবন ও পরিবেশ রক্ষায় এসব গাছ টিকিয়ে রাখা জরুরি। তাদের দাবি, ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় ৪ হাজার ৪৬৮টি গাছ বিক্রি করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, কাঠের বাজারমূল্য বিবেচনায় এসব গাছের প্রকৃত মূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে। ফলে গাছ বিক্রির ক্ষেত্রেও সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা বন কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, গাছ কাটার অনুমোদন জেলা কমিটিতে হয়েছে।

তবে, বিষয়টি অস্বীকার করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান খান বলেন, বর্তমান জেলা প্রশাসকের সময়কালে অর্থাৎ গত তিন-চার মাসের মধ্যে এ ধরনের কোনো অনুমোদন হয়নি। এর আগে হয়ে থাকলে কাগজপত্র ও ফাইল খুঁজে দেখতে হবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, ‘সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়ক প্রশস্তকরণের কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। গাছ কাটার বিষয়ে সড়ক বিভাগের কিছুই জানা নেই। বনবিভাগ থেকে সেখানে গাছ কাটার একটি দরপত্রের কপি শুধু তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।