মৌলভীবাজার মডেল মসজিদ, ইমামের অপসারণ দাবি মুসল্লিদের

মৌলভীবাজার মডেল মসজিদ, ইমামের অপসারণ দাবি মুসল্লিদের

ফন্ট সাইজ:

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ও ফিৎনা সৃষ্টিকারী আখ্যা দিয়ে সদ্য নিয়োগ পাওয়া মৌলভীবাজার জেলা মডেল মসজিদের ইমাম মাওলানা শাহ আলমের অপসারণ চায় এলাকাবাসী ও মুসল্লিরা। শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে ওই ইমামের নিয়োগ বাতিল করে তার অপসারণের দাবিতে জগন্নাথপুর এলাকাবাসী ও মসজিদের মুসল্লিরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন। ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক সড়কের জগন্নাথপুর এলাকায় জেলা মডেল মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে যোগ দেন জেলা সদরের বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার আলেম, শিক্ষক, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ এলাকার শতাধিক মুসল্লি।

মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা বলেন- সদ্য নিয়োগ পাওয়া জেলা মডেল মসজিদের ইমাম মাওলানা শাহ আলম মৌলভীবাজার সদর উপজেলা মসজিদের সাবেক ইমাম ছিলেন। এখন মডেল মসজিদে নিয়োগ পেয়ে এলাকায় ফিতনা সৃষ্টি করছেন। অথচ তার দায়িত্ব হচ্ছে শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রাখা এবং ফিতনা সৃষ্টি হয় এমন কাজ পরিহার করা। প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, ওই ইমাম দীর্ঘদিন ধরে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত। তিনি সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ফিতনা সৃষ্টি করে আসছিলেন। তার এমন বিতর্কিত ভূমিকার কারণে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দায়ে ইমাম মাওলানা শাহ আলমকে অবিলম্বে মডেল মসজিদের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা। বিগত দিনে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে তার ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া। মসজিদের ভাবমূর্তি ও পবিত্রতা রক্ষায় দ্রুত একজন যোগ্য ও দল নিরপেক্ষ আলেমকে নতুন ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেয়া। এই দাবিগুলো না মানলে আগামীতে কঠোর কর্মসূচি হুঁশিয়ারি জানান বক্তারা। বিশিষ্ট আলেম ও জগন্নাথপুর শাহী ঈদগাহ এর সাবেক ইমাম মাওলানা ফখরুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে ও মাওলানা আল আমীন-এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি সদস্য শাহ হেলাল শাহেল, বাবুল মিয়া, জয়নাল আবেদীন কাজল, মাওলানা আব্দুল হান্নান, মাওলানা ফারুক আহমেদ, দারুল উলুম মাদ্রাসার সাবেক মুহাদ্দিস মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম ও মাওলানা লোকমান আহমেদ প্রমুখ।

এদিকে, এ মানববন্ধনের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় জেলা মডেল মসজিদে কিয়াম নিয়ে দ্বন্ধ পক্ষে বিপক্ষে দুই গ্রুপের অবস্থান। তবে অনেকেই বলছেন, এখানে দাঁড়িয়ে ও বসে কিয়ামের (মিলাদ) দ্বন্দ্বে এমন বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এমনটি নয়। এখানে নিয়োগ পাওয়া ইমাম একটি মছলকের অনুসারী আর মুসল্লিয়ান অন্য মছলকের অনুসারী হওয়াতে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। তবে, ইমামের ইলিম ও আমল নিয়েও নানা কথা বলছেন এই মসজিদের স্থানীয় মুসল্লিরা। তারা এই ঘটনার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চান।