সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের কুরসি ও ধীতপুর গ্রামে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ২ শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে অসহায় একাধিক নারী ও শিশু যাওয়ার জায়গা না পেয়ে ভাঙন এলাকায় মাছ ধরা জাল দিয়ে ঘেরা জরাজীর্ণ ভাঙা ঘরে বসবাস ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এসব গ্রামের ভাঙন এলাকায় বালুর বস্তা ফেলে ভাঙনরোধের ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে এলাকাবাসী সমপ্রতি কুরসি বাজার এলাকায় ভাঙনের পাড়ে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে।
এ বিক্ষোভ শেষে ভাঙনরোধে বস্তা ডাম্পিংয়ের দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জিন্নাহ মণ্ডল, আব্দুল মালেক, আব্দুস সামাদ, ফিটার সরদার প্রমুখ। বক্তারা বলেন, এ বছর বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর, ধীতপুর, কুরসী, বারপাখিয়া, গালা ইউনিয়নের মোহনপুর ও হাতকোড়া গ্রামে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়ে এখনো তা অব্যাহত আছে। এই ভয়াবহ ভাঙনে গত ৩ মাসে শত শত বাড়িঘরের পাশাপাশি কৃষকদের শত শত বিঘা আবাদি জমি চোখের সামনে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়িঘর ও আবাদি জমি হারিয়ে কৃষকেরা দিশাহারা হয়ে পড়েছে। চোখের সামনে সবকিছু যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেলেও চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া তাদের আর কিছুই করার ছিল না। ভাঙনের ভয়াবহতা এতই তীব্র আকার ধারণ করেছে যে, কেউ বাড়িঘর ও আসবাবপত্র সরিয়ে নেয়ারও সময় পাচ্ছে না। তারা সরকারের কাছে অবিলম্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে এই ভাঙন এলাকায় বালুর বস্তা ডাম্পিং করে ভাঙনরোধের জোর দাবি জানান।
এ সময় তারা আরও জানান, গত ৩ সপ্তাহে শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের কুরসী ও ধীতপুর গ্রামের ২ শতাধিক বাড়িঘর যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া ধীতপুর-কুরসী গরুর হাট-বাজার যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও গরু-ছাগল বেচা-বিক্রিতে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। ফলে এখানকার কৃষকেরা চরম অর্থকষ্টে ভুগছে। তারা আরও রাক্ষুসী যমুনায় তাদের জমিজমা সবকিছু বিলীন হয়ে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গত ৪-৫ দিন আগে তার বাবার বাড়িটি যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়ায় তাদের বসতঘরটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ফলে শূন্যভিটায় অপর একটি পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ ভাঙা ঘরে মা রেহানা খাতুন ও কোলের শিশুকন্যাকে নিয়ে বসবাস করছেন। গত কয়েকদিনে তাদের কেউ খোঁজখবর নেয়নি। সরকারি ১ কেজি চাল পেয়ে তা দিয়ে তাদের কোনোমতে জীবন চলছে।
এ বিষয়ে ধীতপুর ঘোনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাফিজ উদ্দিন, নুরুল ইসলাম ও জিন্নাহ মণ্ডল জানান, এ এলাকার ভাঙনরোধে বালুভর্তি জিওটিউব বস্তা ফেলা জরুরি। কিন্তু সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড এ চরবাসীদের মূল্যায়ন না করায় এখানে বালুরবস্তা ফেলার উদ্যোগ নেয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরম অবহেলায় আমাদের গ্রামগুলো যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন জানান, ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণের চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। অসহায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনেও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মখলেছুর রহমান জানান, শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নটি যমুনা নদীর চরাঞ্চল এলাকা হওয়ায় আপাতত আমাদের কোনো প্রকল্প নেই। প্রকল্প পেলে সেখানে আমরা ভাঙনরোধে কাজ করবো।
