ঐতিহ্যবাহী সাঘাটা হাট-বাজার স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহলের অবৈধ দখলের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অর্থায়নে নির্মিত শেডঘরের ভেতরের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে পাকা-আধাপাকা গেটঘর। পাশাপাশি বাজারের বিভিন্ন সড়ক ও চলাচলের জায়গা দখল করে বসানো হয়েছে দোকানপাট। এতে একদিকে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ক্রেতা-বিক্রেতাসহ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরজমিন দেখা যায়, সাধারণ ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য নির্মিত শেডের মাঝের খালি জায়গা দখল করে কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে শেডের ভেতরে ব্যবসায়ীদের বসার জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে কাঁচামাল, পান ও মসলা ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বাধ্য হয়ে সড়কের উপর দোকান নিয়ে বসছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি স্থাপনা ও জনসাধারণের চলাচলের জায়গা এভাবে দখল হওয়ায় হাটের ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে হাটবারে সড়কের উপর দোকানপাট বসায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
হাটের সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য নির্মিত সরকারি শেডের ভেতরের জায়গা দখল করে গেটঘর নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব স্থাপনা অপসারণ করা হলে শেডের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি হবে এবং সড়কের উপর বসা অনেক দোকান সেখানে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। এতে বাজারের উপর যানবাহন ও পথচারীর চাপ কমবে এবং হাটের পরিবেশও স্বাভাবিক হবে। অন্যদিকে, হাটের বিভিন্ন সড়ক ও চলাচলের জায়গা দোকানপাটের দখলে চলে যাওয়ায় বাজারের ভেতরের রাস্তা দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। হাটবারে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। স্থানীয় বাসিন্দা রহিম উদ্দিন বলেন, হাটের দিন বাজারের ভেতর দিয়ে চলাচল করাই কঠিন হয়ে যায়। রাস্তার দুই পাশে দোকান, মাঝখানে ভ্যান-রিকশা ও অটোরিকশা- সবমিলিয়ে মানুষের হাঁটার জায়গাটুকুও থাকে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাটের বিভিন্ন অংশে অবৈধ দখল বাড়লেও কার্যকরভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এতে সরকারি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত জায়গা না পেয়ে সড়কের উপর বসতে বাধ্য হচ্ছেন। হাটের অব্যবস্থাপনা ও অবৈধ দখল উচ্ছেদের দাবিতে সাঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। সাঘাটা ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন বেপারি বলেন, সাঘাটা হাটবাজারের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে হাটুরেদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরকারি শেডঘরের ভেতরের অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে দিলে সেখানে ব্যবসায়ীদের বসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সাঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন সুইটের সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল কবির বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
