কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় বর্ষার ভরা মৌসুমেও স্থানীয় বাজারগুলোতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। অল্প পরিমাণে ছোট আকারের ইলিশ পাওয়া গেলেও তার দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বড় আকৃতির ইলিশ বাজারে না থাকায় হতাশ হয়ে ফিরছেন ক্রেতারা। ?
কুতুবদিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট আকৃতির ইলিশ মিললেও বড় আকার এক-দুই কেজির ইলিশের দেখা মেলা ভার। ক্রেতাদের অভিযোগ, দুই-তিন বছর আগেও এই সময়ে বাজারগুলোতে বড় আকারের ইলিশে ভরপুর থাকতো। কিন্তু, এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো।
বড়ঘোপ বাজারে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে ধুরুং বাজারে ছুটে এসেছিলেন উপজেলার আলী আকবর, ডেইল ইউনিয়নের মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। তিনি জানান, এক আত্মীয়ের জন্য বড় আকারের ইলিশ কিনতে এসে উল্টো গাড়ি ভাড়ার টাকাই গচ্চা গেছে।
উপজেলার মাহমুদুর রহমান মফিজ আলম, গিয়াস উদ্দিন ও নাছির উদ্দীনের মতো স্থানীয় জেলেরা জানান, সাগরে পর্যাপ্ত মাছ পাচ্ছে না তারা। তবে, অল্প কিছু পাওয়া গেলেও তা সাগরেই বিক্রি হয়ে চট্টগ্রামে চলে যাচ্ছে। যে কারণে স্থানীয় বাজারগুলোতে ইলিশের আকাল দেখা দিয়েছে।
কুতুবদিয়া উপজেলা মৎস্য ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, আবহাওয়া খারাপ ও উত্তাল ঢেউ থাকায় অনেক ট্রলার সাগরে মাছ ধরতে নামতে পারেনি। এ ছাড়া সাগরে চাহিদা মতো ইলিশ ধরা পড়ছে না। একটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে সাগরে যেতে ন্যূনতম ৩ লাখ টাকার রসদ ও মালামাল প্রয়োজন হয়। ওই খরচের টাকাও তোলার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ ব্যাপারে কুতুবদিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাহাদুল ইসলাম জানান, ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও আবহাওয়া প্রতিকূল থাকা, পানির তাপমাত্রা ও লবণাক্ততা পরিবর্তন, পানি দূষণ, স্রোতের গতি এবং ইলিশের গতিপথ পরিবর্তনের কারণে কুতুবদিয়া উপকূলে মাছ মিলছে না।
সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইলিশের প্রধান মৌসুম ধরা হলেও আগস্টের শেষ ভাগ থেকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সময়ে ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তবে, সুনির্দিষ্টভাবে কোন সময়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়বে, তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানান এই কর্মকর্তা।
