সিরাজগঞ্জের তাড়াশে দীর্ঘ ৬১ বছরের পুরোনো ঈদগাহ মাঠকে কেরাম খেলার নামে ঘর নির্মাণ করে দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় মুসুল্লিদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত শনিবার সকালে উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে ছয়টি সিমেন্টের খুঁটি ও টিনের ছাউনি দিয়ে কেরাম খেলার ঘর তৈরি করে মাঠটি দখলে নেন ওই প্রভাবশালী।
রোববার দুপুরে জাহাঙ্গীর হোসেন তার নিজ ফেসবুকে ঈদগাহ মাঠে তোলা নতুন ঘর ও কেরাম খেলার ছবি পোস্ট করে লেখেন, দীর্ঘদিন ঝামেলা থাকার পর জালেমদের হাত থেকে বাপের জায়গা উদ্ধার করলাম। পরে ঈদগাহ মাঠ দখলের বিষয়টি জানাজানি হয়।
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হোসেন ওই গ্রামের জিয়াউল হকের ছেলে এবং মেসার্স জান্নাতুল ট্রেডার্স নামক প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী।
ভূমি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানায়, দেওড়া মৌজার আরএস ২২৬ নং খতিয়ানের ৩১৩ দাগে ভিটা শ্রেণির ২২ শতক জমিটি ‘ক’ তফসিলভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি। যার ৭ শতক ঈদগাহ মাঠের নামে বন্দোবস্ত রয়েছে। বাকি ১৫ শতক স্থানীয় কজন ব্যক্তি বসতবাড়ি নির্মাণ করে অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন।
ঈদগাহ মাঠ কমিটি সদস্য জাকির হোসেন অভিযোগ করে মানবজমিনকে বলেন, ১৯৬৫ সাল থেকে গ্রামবাসী মাঠটিতে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছে। এ বছরের দুটি ঈদের নামাজও তারা ওই মাঠেই আদায় করেছেন। শুধু তাই নয়, মাঠটি দখলে নেয়া জাহাঙ্গীর হোসেনও ওই মাঠেই ঈদের নামাজ আদায় করেন। অথচ তিনি কোন বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সবার অগোচরে কেরাম খেলার নামে মাঠটি দখলে নিয়েছেন। এ ঘটনার তিনি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঈদগাহ মাঠের আরেক সদস্য আবু তাহের বলেন, জাহাঙ্গীর শুধু এবার না, এ বছরের জুলাই মাসের ২০ তারিখেও ঈদগাহ মাঠের ইটের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে টিনের বেড়া দিয়ে ঈদ মাঠ দখলের চেষ্টা করেছিল। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর অভিযোগ দিলে উভয়ের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জাহাঙ্গীর হোসেনকে টিনে বেড়া খুলে ফেলার নির্দেশ দেন। এরপর তিনি সেটা খুলে ফেলেন। কিন্তু শনিবার আবার ভিন্ন কৌশলে ঈদগাহ মাঠে ঘর তুলে দখলে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। তিনি এ ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাছাড়া অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হোসেন ঈদগাহ মাঠ দখলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, পুরো ঈদগাহ মাঠ না, মাঠের একটি অংশে কেরাম খেলার ঘর তুলেছি। মূলত জায়গাটি আমার পৈতিৃক সম্পত্তি। কিন্তু গ্রামের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি ঈদের নামাজে ব্যবহার করছেন। এখন সময় হয়েছে, তাই জায়গাটি দখলে নিয়েছি।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, ঈদগাহ মাঠ দখলের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
